বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জনবল সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 4 দিন আগে | সারাদেশ

Administrator

জনবল সংকটে জর্জরিত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মাত্র ২০ জন চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী সেবায় নিয়োজিত থেকে সঙ্কটে ভুগছেন যেখানে ৩৭১ জনের প্রয়োজন রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল করে তুলছে কুড়িগ্রামের দুইশত পঞ্চাশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও আধুনিক যন্ত্রপাতির চরম স্বল্পতা। দৈনন্দিন ভিত্তিতে রোগীরা পর্যাপ্ত মানবসম্পদের অভাবে চিকিৎসা সেবায় সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, দুই হাজার সতেরো সালে প্রতিষ্ঠানটি দুইশত পঞ্চাশ শয্যায় উন্নীত হলেও সংশ্লিষ্ট জনশক্তির বৃদ্ধি সে অনুযায়ী হয়নি। তিনশত একাত্তর জন চিকিৎসকের অনুমতিপ্রাপ্ত পদের বিপরীতে কেবল বিশজন কর্মরত রয়েছেন। একই পরিস্থিতিতে তিনশত চল্লিশ জন নার্সিং কর্মীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও একশত ষাটজনই দায়িত্ব পালন করছেন, যা একশত শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমতুল্য।

গড়ে প্রতিনিয়ত পাঁচশত জনের অতিরিক্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে দিনে একবারের চেয়ে বেশিবার রোগী পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। দুপুরের পরবর্তী সময়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অথবা সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বিশেষজ্ঞ পরামর্শের জন্য পরের দিনের অপেক্ষা করতে হয় অধিকাংশ রোগীকে। এই বিশাল সংখ্যক রোগী পরিচালনায় স্বল্প কর্মী বাহিনী সহ চিকিৎসকরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনেকোলজি ও কার্ডিওলজি বিভাগে কোনো সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিয়োগের অবস্থা নেই। অ্যানেসথেশিয়া এবং অর্থোপেডিক সার্জারিসহ আটটি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদ দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে আছে। জুনিয়র কনসালট্যান্টের বারোটি পদের মধ্যে ছয়টি অখণ্ড থেকে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি মেডিকেল অফিসার, ওয়ার্ড মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার এবং সহযোগী রেজিস্ট্রার পর্যায়েও অনেক শূন্য আসন রয়েছে। চিকিৎসক কর্মীর অভাবের কারণে নাক, কান ও গলা বিভাগের কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংকট হাসপাতালের সেবাদান ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করেছে। রোগী পরিচর্যক, বেড সহায়ক, স্বাস্থ্যবিধি কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহুসংখ্যক পদ খালি রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া থেমে আছে। দুইশত পঞ্চাশ শয্যার সুবিধার জন্য চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অন্তত একশত পঞ্চাশজন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র সাতচল্লিশজন নিয়োজিত আছেন।

এই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, দুইশত পঞ্চাশ শয়্যার হাসপাতালের জন্য তিনশত একাত্তর জন চিকিৎসকের অনুমোদিত সংখ্যা থাকলেও বাস্তবে বিশজনই কাজ করছেন। এই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে পাঁচশত নতুন ভর্তি রোগী এবং বহিরাগত বিভাগে হাজারো রোগীর সেবা প্রদান করতে বাধ্য। সীমিত কর্মী নিয়েই সর্বাধিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বারবার উর্ধ্বতন প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হলেও আজ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মানব সম্পদ সরবরাহ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ প্রতিষ্ঠানের কুড়িগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, দুইশত পঞ্চাশ শয্যার জেলা হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও যথাযথ সংখ্যক চিকিৎসক, সহায়ক কর্মী এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে জেলার জনগণ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের প্রতি শূন্য পদে চিকিৎসক ও সহায়ক নিয়োগ দ্রুত করা, অকর্মক সরঞ্জাম মেরামত পরিচালনা এবং আইসিইউ ও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা বিভাগ স্থাপনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রেখেছেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।