শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

চাঁদা আদায়ের অভিযোগে নৌপুলিশের দুই সদস্য বরখাস্ত

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 16 ঘন্টা আগে | সারাদেশ

Administrator

চাঁদা আদায়ের অভিযোগে নৌপুলিশের দুই সদস্য বরখাস্ত

বরগুনার পাথরঘাটায় নৌপুলিশের দুই সদস্য জেলেদের ট্রলার থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। গোপন তদন্তে সাংবাদিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

একটি গোপন তদন্তে জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়ার পর বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌপুলিশ ফাঁড়ির দুইজন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব সম্পর্কেও তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।

এই ঘটনা সম্পর্কে বরিশাল নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তথ্য প্রদান করেন।

২৬ জুলাইতে একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কাজ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় যেখানে একজন সাংবাদিক জেলের পরিচয় ধারণ করে নৌপুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অর্থ দাবির ঘটনা ধারণ করেছেন। খবর সংযোগ সহ বহু মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়, যেখানে চরদুয়ানী ফাঁড়ির সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদী শোষণের বিবরণ, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদন নৌপুলিশ সদর দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সাথে সাথে অবিলম্বে একটি তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলে এএসআই কবির আহমেদ এবং কনস্টেবল আসাদুল সাময়িক বরখাস্তির শাস্তিতে পড়েন।

তদন্তকালীন সংগ্রহীত ভিডিওচিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যার মধ্যে জেলের পোশাকে থাকা সাংবাদিক থেকে নৌপুলিশের দুই কর্মচারী অর্থ গ্রহণের দৃশ্য দৃশ্যমান হয়। এই ভিডিও প্রচারের পরে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পাথরঘাটার কাছাকাছি বিষখালী-বলেশ্বর নদীর ভাড়ানী খালপথ দিয়ে হাজারো জেলে নিয়মিত বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাতায়াত করেন। এই জেলেদের দাবি অনুযায়ী প্রতিটি ট্রলার থেকে প্রতিবার ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ে নেওয়া হতো। যদিও দীর্ঘকাল ধরে এই শোষণের কথা পরিচিত ছিল, কিন্তু দৃঢ় প্রমাণের অভাবে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, নৌপুলিশ বাহিনী ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য সংস্থা নিজেকে দায়বদ্ধ করে না। দুজন সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তির আদেশ জারি হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে চরদুয়ানী ফাঁড়ির ইনচার্জও এই ঘটনায় দায়মুক্ত নন এবং তদন্তে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধান কার্যক্রমে ফাঁড়ি ইনচার্জ গজনবী প্রাথমিকভাবে সকল অভিযোগ খণ্ডন করেন। এই সময় অভিযুক্ত কনস্টেবল আসাদুল সংবাদকর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

এলাকার জেলে সম্প্রদায় মনে করে, দুই কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। তারা এই চাঁদাবাজির সম্পূর্ণ চক্র এবং সকল সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের সম্মুখীন করা এবং কঠোর দণ্ডের জন্য আহ্বান জানান।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।