শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

গাইবান্ধায় আমন চাষে সংকট, ৩৩ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | সারাদেশ

Administrator

গাইবান্ধায় আমন চাষে সংকট, ৩৩ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট

গাইবান্ধা জেলায় দীর্ঘ বৃষ্টির কারণে আমন ধানের বীজতলা জলাক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে কৃষকরা আগামী ফসলকাটায় বড় সংকটের আশঙ্কা করছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলের ফলে গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমন ধানের বীজতলা জলে তলিয়ে গেছে এবং চারাগুলি ক্রমশ হলুদ হতে শুরু করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সমস্ত চারা পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের দামি চারা কিনে ক্ষতি পূরণ করতে হবে। সদর উপজেলার কিশামত মালিবাড়ি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় চাষিরা জানান যে এ মুহূর্তে নতুন বীজতলা তৈরি করার সময় সংকুলান করা সম্ভব নয়। চরাঞ্চল এবং নিম্নভূমির অধিকাংশ বীজতলা পুরোপুরি পানির নিচে রয়েছে এবং অনেকগুলি ইতিমধ্যে নষ্ট হয়েছে। ফলে আমন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য ৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বর্তমান বৃষ্টিতে ১৩২ হেক্টর বীজতলা জলের নিচে পড়ে গেছে এবং ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও জেলায় প্রায় ৩১০ হেক্টর সবজির চাষ এলাকা জলাক্রান্ত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার খোলাহাটি, কুপতলা, মালিবাড়ি এবং কিশামত মালিবাড়ি ইউনিয়নে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এবং পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের বীজতলাগুলি পানিতে ডুবে রয়েছে। কিছু কৃষক তাদের বীজতলা থেকে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। মালিবাড়ি গ্রামের কৃষক জাহিদুল মিয়া বলেন, একটি মণ ধানের বীজ নিয়ে বীজতলা করেছিলেন কিন্তু বৃষ্টির কারণে সব তলিয়ে গেছে। পানি কমার পরেও নতুন বীজ কিনতে আর্থিক সামর্থ্য নেই। এর ফলে অনেক জমি অনাবাদী থেকে যেতে পারে। শ্রীপুর ইউনিয়নের শহিদুল ইসলাম ৪৫ শতাংশ জমিতে দেড় মণ ধানের বীজতলা করেছিলেন যা এখন হাঁটু পর্যন্ত পানিতে নিমজ্জিত।

সরকারি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ভিন্ন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম বলেন, সদরে মাত্র ১৩ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়বে না। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, বৃষ্টি ও পানিবৃদ্ধির ফলে কয়েক উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং কিছু বীজতলা ডুবে গেছে। তবে জেলায় অতিরিক্ত ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত প্রস্তুতির কারণে আমন উৎপাদনে কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।