কলকাতার হোটেলে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরছে সাত বাংলাদেশির মরদেহ
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ আজ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের শোকাবহ অধ্যায় ও স্বজনদের অপেক্ষা
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত 'শিখা ইন' হোটেলে গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনো কাটেনি। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্তে ভিড় করেছেন স্বজনরা।
প্রশাসনিক জটিলতা ও মরদেহ হস্তান্তরের প্রস্তুতি
কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহগুলো কফিনে ভরে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে আনা হয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন ও ইমিগ্রেশন ওসি সাইফুর রহমান খান নিশ্চিত করেছেন যে, বন্দর কর্তৃপক্ষ মরদেহ গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইনি জটিলতায় পাসপোর্ট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হলেও, দুপুর নাগাদ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাঁচটি এবং ভোমরা সীমান্ত দিয়ে একটি মরদেহ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের মরদেহও রয়েছে। তবে পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে রেবতী সরকার নামে একজনের মরদেহ ভারতেই সৎকার করা হবে।
শোকের ছায়ায় কুষ্টিয়া ও স্বজনদের আর্তি
নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলীর মৃত্যু পুরো কুষ্টিয়া জেলাকে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে। দেবাশীষ দত্ত স্থানীয় সাংবাদিকতায় এক পরিচিত মুখ ছিলেন। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর কুষ্টিয়ায় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এ ঘটনায় কেবল একটি পরিবারই নয়, বরং পুরো জাতি এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই ট্র্যাজেডি আমাদের প্রতিবেশী দেশে ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।