মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ইরানের দ্বৈত সামরিক কাঠামো: টিকে থাকার নেপথ্যের কৌশল ও ভূ-রাজনীতি

4 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | বিশ্ব
ইরানের দ্বৈত সামরিক কাঠামো: টিকে থাকার নেপথ্যের কৌশল ও ভূ-রাজনীতি

ইরানের সামরিক কাঠামোর অনন্য দ্বৈত রূপ কীভাবে রাষ্ট্রকে সংকটময় মুহূর্তে স্থিতিশীল রাখে, তা নিয়ে এক গভীর বিশ্লেষণ।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার মূল ভিত্তি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল রাষ্ট্র। দেশটির সামরিক শক্তি কেবল আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক অনন্য দ্বৈত সামরিক কাঠামো। ইরান একই সাথে নিয়মিত বাহিনী 'আরতেশ' এবং আদর্শিক বাহিনী 'ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি) পরিচালনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হারানো সত্ত্বেও দেশটির রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে না পড়ার পেছনে এই দ্বৈত ব্যবস্থার সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রয়েছে।

বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা ও আইআরজিসির উত্থান

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের নতুন ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রথাগত সেনাবাহিনীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেনি। রাজতন্ত্র আমলের নিয়মিত বাহিনী 'আরতেশ' যাতে কোনো সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, সেজন্য বিপ্লবকে সুরক্ষিত রাখতে 'আইআরজিসি' গঠন করা হয়। এটি কেবল একটি সামরিক শাখা নয়, বরং বিপ্লবের আদর্শ রক্ষার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

সমান্তরাল শক্তির রণকৌশল

আইআরজিসি এবং আরতেশ—উভয়ই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাদের কর্মপরিধি ভিন্ন। আরতেশ মূলত দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং প্রথাগত সামরিক দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে, আইআরজিসি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, এবং কুদস ফোর্সের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। এই বিভাজন ইরানকে একই সাথে প্রচলিত ও অপ্রচলিত যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদান করেছে।

অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর প্রভাব

আইআরজিসির প্রভাব কেবল সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতির বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ এই বাহিনীর হাতে। ফলে এটি শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। দুটি পৃথক বাহিনী থাকার ফলে একটির ক্ষমতা অন্যটির মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসনব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।

উপসংহার

ইরানের সামরিক কাঠামো অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বহুমুখী। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্রকে অটুট রাখার ক্ষেত্রে এই দ্বৈত সামরিক ব্যবস্থার কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও আরতেশ ও আইআরজিসির মধ্যে বাজেট ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে নীরব প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী কাঠামো হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এটিই বর্তমান ইরানকে যেকোনো বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক সংকটের মুখেও টিকে থাকার রসদ যোগাচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।