বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

রামগতি বাজার শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক লক্ষ্মীপুরে দুদক মামলায় দীর্ঘমেয়াদী সাজা পান

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 58 মিনিট আগে | সারাদেশ

Administrator

রামগতি বাজার শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক লক্ষ্মীপুরে দুদক মামলায় দীর্ঘমেয়াদী সাজা পান

রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক ব্যাংকিং নীতি লঙ্ঘন করে দেড় কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে বিশেষ আদালতে ২৫ বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত হয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত কাফিলাতলি এলাকায় বাসিন্দা মো. আবদুল মজিদ একজন স্থানীয় ব্যক্তি যিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন। ৪৮ বছর বয়সী এই অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বর্গীয় আমিনুল হকের সন্তান এবং ব্যাংকের রামগতি বাজার শাখায় দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপকীয় দায়িত্ব বহন করেছিলেন।

২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর হতে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবদুল মজিদ সেই শাখার নেতৃত্বে থাকার সময়ে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কাজ সংঘটিত করেন। তার দায়িত্বভুক্ত এসটিডি অ্যাকাউন্ট নম্বর ৪ থেকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা এবং এসটিডি অ্যাকাউন্ট নম্বর ৬ থেকে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা অননুমোদিতভাবে উত্তোলন করেন। সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের অংশ হিসেবে যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা তার তত্ত্বাবধানে ছিল, তাও তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ব্যাংকিং পদ্ধতি উল্লংঘন করে সর্বাধিক ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা অননুমোদিতভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল।

দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত অনুসন্ধানে আবদুল মজিদের ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি সর্বসমেত ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার অপ্রত্যাশিত সম্পদ সংগ্রহ করেছেন। তৎকালীন দুদক উপসহকারী পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন যৌথভাবে আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেছিলেন।

নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী গত মঙ্গলবার, ২১ জুলাই দুপুর বেলায় এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড নির্ধারণ করেন। এই তিনটি শাস্তি একত্রিত করলে সর্বমোট ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে তার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আর্থিক শাস্তি হিসেবে আবদুল মজিদকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই জরিমানা পরিশোধিত না হয়, তবে তার আরও ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অতিরিক্ত হিসেবে, ন্যায্য আয়ের উৎস ছাড়াই অর্জিত সম্পূর্ণ ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পত্তি জাতীয় ভান্ডারে সংযোজনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।