সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে ফের সক্রিয় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

4 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | বিশ্ব
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে ফের সক্রিয় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসন ও দুই দেশের মধ্যে সংলাপের পথ প্রশস্ত করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষায় আসিম মুনির

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থির সময়ে আবারও তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। চলতি বছরে এটি তাঁর তৃতীয় সফর, যা থেকে স্পষ্ট যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান একটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে মরিয়া। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই আঞ্চলিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক অবরোধের বৃত্ত

চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরানের সাফ কথা, ওয়াশিংটন যদি বাণিজ্যিক অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত না করে, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধই থাকবে। বিপরীতে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ওপর নতুন করে কঠোরতর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

সামরিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরানের নতুন সামরিক নেতৃত্বের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কাতার যেখানে পর্দার আড়ালে আলোচনা চালাচ্ছে, জেনারেল মুনির সেখানে সরাসরি সামরিক চ্যানেলে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া, বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় পাকিস্তানি নাবিক নিহতের ঘটনাটিও আলোচনার টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট

এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে মার্কিন কঠোর অবস্থান এবং ইরানের অনড় মনোভাবের মাঝে এই মধ্যস্থতা সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির এই কূটনৈতিক তৎপরতা শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।