শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরের অর্থবছর ব্যর্থতা: এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্য হ্রাস করেছে

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 57 মিনিট আগে | সারাদেশ

Administrator

বেনাপোল স্থলবন্দরের অর্থবছর ব্যর্থতা: এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্য হ্রাস করেছে

গত অর্থবছরে ৪,৭৩১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতির পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেনাপোল বন্দরের নতুন লক্ষ্য কমিয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা সুবিধা বৃদ্ধির দাবি করছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব সংগ্রহে গত বছরের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন অর্থবছরে বন্দরটির জন্য কম লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করেছে। চলমান বছরে নির্ধারিত লক্ষ্য ১০,৫৮৮ কোটি টাকা - যা আগের অর্থবছরের লক্ষ্যের চেয়ে ৭০২ কোটি টাকা কম।

বিষয়টিকে কঠোর পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) ছিল বেনাপোল বন্দরের জন্য সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের বছর। যখন বোর্ড ১১,২৯০ কোটি টাকার রাজস্ব নির্ধারণ করেছিল, বাস্তবে তখন মাত্র ৬,৫৫৯ কোটি টাকা আহরণ করা সম্ভব হয়েছিল। এর ফলে রাজস্বে ৪,৭৩১ কোটি টাকার একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।

নতুন লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্পর্কে কাস্টমস প্রশাসন একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। তবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শর্ত নির্ধারণ করেছে। তারা বলছে, অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা, রাজস্ব চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রযোজ্য নানা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে।

বেনাপোলে দুর্নীতি রোধে চলমান অভিযান বেশ সক্রিয়। কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ ছয় মাসে বেনাপোলে ১৩০টি জালিয়াতি ঘটনা ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, গত মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য চোরাই আনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কাস্টমস, বন্দর-কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং ব্যবসায়ীসহ ৫৭ জনকে আইনি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বিশ্বাস করেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তার মতে, আমদানির প্রবাহ বৃদ্ধি, স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা এবং অবৈধ কার্যক্রম দমনে শক্তিশালী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব লক্ষ্য পূরণ করা যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতি তার দলের অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।