বগুড়ার শাখারিয়ায় ছাত্রসংগঠনের সাবেক নেতা নিহত
Administrator
শাখারিয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন নেতা সাগর মণ্ডল দুর্বৃত্তদের সম্মিলিত আক্রমণে নিহত হয়েছেন। প্রাচীন বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে।
চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী এক যুবক বুধবার রাতের গভীরে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে জীবন হারিয়েছেন। রাত আড়াইটার দিকে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় আতিকুর রহমান সাগর মণ্ডল।
পাঁচবাড়িয়া গ্রামে তার বাড়ি থাকলেও তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনের সাথে চালিতাবাড়িতে শ্বশুরবাড়ির সাথে বসবাস করতেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের পূর্ববর্তী আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পিতা শাহাদাত হোসেন।
ঘটনা সম্পর্কিত তদন্তে পুলিশ শাপলা নামে একটি নারীকে গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজতে রেখেছে।
সাগরের পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদে তার প্রতিবেশীদের সাথে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। সেই রাতে তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতর খাওয়া-দাওয়া করছিলেন, আর সাগর বাইরের আঙিনায় ছিলেন। হঠাৎই বাইরে থেকে চিৎকার শব্দ শুনে তার স্ত্রী দরজা খুলে দেখেন। তখন তার সম্পর্কীয় জুলহাসের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ টিনের সীমানা ভেঙে প্রবেশ করে ধারালো হাতিয়ার দিয়ে সাগরকে আক্রমণ করে।
সাগর মণ্ডল ঘর থেকে বেরিয়ে পালাবার চেষ্টা করলে গ্রামের একটি রাস্তায় পড়ে যান। এলাকার মানুষের সহায়তায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিবহন করা হয়। সেখানে অগ্রিম চিকিৎসকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
সাগরের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন বর্ণনা করেন যে তিনি যখন স্বামীকে বাঁচাতে জোরে ডাক দিয়েছিলেন, তখন হামলাকারীরা তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় সিএনজি যানবাহনে যাত্রা করার সময়ও অপরাধী দল তাদের অনুসরণ করে অত্যন্ত ভয়ংকর আচরণ করেছে।
বগুড়া সদর থানার অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত পরিচালক মাহফুজ আলম জানান যে সংবাদ পাওয়ার পরপরই দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিবেচনা অনুযায়ী পূর্বের শত্রুতা থেকে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনায় শাপলাকে তদন্তের জন্য পুলিশ অধিগ্রহণ করেছে।
সাগর মণ্ডলের বিরুদ্ধে পূর্বে সংঘর্ষ, নারকোটিক্স এবং অস্ত্র সম্বন্ধীয় অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা নিবন্ধিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনার সাথে সংযুক্ত অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং গ্রেপ্তারের জন্য অনুসন্ধান চলছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।