শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খানাখন্দ: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 56 মিনিট আগে | সারাদেশ

Administrator

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খানাখন্দ: বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সোনারগাঁয় বৃষ্টিতে তৈরি মহাসড়কের অসংখ্য গর্ত এখন যাত্রীদের জীবনের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছে, যেখানে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় দুর্ঘটনা ঝুঁকি বিপুল।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় বিস্তৃত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের কারণে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পিচের স্তর বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় হয়ে বিভিন্ন আকৃতির এই খানাখন্দগুলি এখন যানবাহন চলাচলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সমস্যার কারণে অঞ্চলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে প্রকাশ পায় যে কাঁচপুর সেতুর ঢালু অংশ থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুর্দী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের রাস্তার পিচ উঠে গেছে। স্থানে স্থানে ছোট-বড় নানা মাপের গর্ত তৈরি হয়েছে যা বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ থাকে। রাতের অন্ধকারে অথবা দূর থেকে এই গর্তগুলি চেনা যায় না, যার ফলে দ্রুতগতিতে চলমান যানবাহনের চালকদের জন্য এগুলি সম্ভাব্য মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে।

পরিবহন চালক হাফিজুল হক এই অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, 'এই মহাসড়কের গর্তগুলি দুর্ঘটনার একটি প্রধান কারণ, আর গভীর রাতে এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'এ অংশে বেশিরভাগ সময় অস্থায়ী মেরামত করা হয়, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পিচ আবার উঠে যায়। স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ কখনোই শেষ হবে না।'

কুমিল্লা থেকে আসা যাত্রী খোকন আহমেদ, যিনি তিশা পরিবহনে ভ্রমণ করছিলেন, বলেন, 'দিনের বেলায় গর্তগুলি দেখা যায়, কিন্তু রাতে এই পথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিটি যাত্রায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষজন ভ্রমণ করছে।'

একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ইয়াসিন মোল্লা এ বিষয়ে বলেন, 'বৃষ্টির কারণে এই গর্তগুলির গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাড়ির চাকা যদি এর মধ্যে পড়ে যায়, তাহলে চালক তাৎক্ষণিকভাবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এগুলি এখন সত্যিকারের মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।'

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান যে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং সড়কের পাশে বৃদ্ধ পেয়েছে এমন তৃণভূমি ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানির দ্রুত নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা এই খানাখন্দ সৃষ্টির মূল কারণ। পূর্বে রাস্তার কয়েকটি অংশ মেরামত করা হয়েছিল, তবে নতুন বৃষ্টিতে সেগুলি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, 'এই দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি আমাদের সম্পূর্ণ নজরে আছে। মেরামতের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তবে চলমান বৃষ্টি কিছুটা বাধা সৃষ্টি করছে। আশা করছি, এক দুই দিনের মধ্যে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা সম্ভব হবে।'

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।