শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

নজিপুরের সমবায়ে লক্ষ লাখ টাকার আমানত ফেরত নিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 55 মিনিট আগে | সারাদেশ

Administrator

নজিপুরের সমবায়ে লক্ষ লাখ টাকার আমানত ফেরত নিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বপ্ন ভূমি সমবায় সমিতি উচ্চ রিটার্নের লোভ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু এখন আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়ে গ্রাহকদের প্রতিবাদের সম্মুখীন হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নজিপুর পৌরসভার চার রাস্তার মোড়ে গত বুধবার দুপুরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বপ্ন ভূমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিতে জমা রাখা তাদের আমানতের অর্থ ফেরত পেতে এই প্রতিবাদী সমাবেশে অংশ নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। প্ল্যাকার্ড এবং ব্যানার হাতে নিয়ে তারা সমিতির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে আমানত আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

সমাবেশে আবু বক্কর সিদ্দিক, আসাফউদ্দৌলা চৌধুরী টগর, রোকছানা পারভীন লাকি এবং নূর ইসলাম বাবু বক্তৃতা দিয়েছেন। তারা জানান, ২০২০ সালে ওবায়দুল ইসলাম নান্টু ও আপেল মাহমুদ প্রমুখ এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উচ্চ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আমানত হিসেবে আহরণ করেছেন। তবে যখন গ্রাহকরা তাদের টাকা ও প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ চেয়েছেন, সমিতি নানা অছিলায় পরিশোধে গড়িমসি করতে শুরু করে।

বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও বেশিরভাগ আমানতকারী তাদের অর্থ ফেরত পাননি, যা তাদের ক্রোধের কারণ হয়েছে। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা সমিতির সভাপতি, সহসভাপতি, সম্পাদক এবং অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে পত্নীতলা থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আবু বক্কর সিদ্দিক একাই ১৬ লাখ টাকা রেখেছিলেন, যা তার জীবনের উল্লেখযোগ্য সঞ্চয়। তাঁর সঙ্গে আসাফউদ্দৌলা চৌধুরী, রোকছানা পারভীন লাকি, নূর ইসলাম বাবু, মিনা খাতুন, হবিবর রহমান এবং মুক্তি রানী সহ অসংখ্য গ্রাহক প্রত্যেকে কয়েক লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেছেন। সর্বমোট কয়েক কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অর্থ এখনও সমিতির কাছে আটকে রয়েছে।

গ্রাহকদের আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, এই মানববন্ধনের ঘোষণার পর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সমিতির নেতৃত্ব থেকে মারপিট এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তাদের পরিশ্রমের অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে টাকা ফেরতে বিলম্ব হয়েছে এবং তারা ক্রমাগত পরিশোধ করছে। তার দাবি অনুযায়ী কিছু গ্রাহক ইতিমধ্যে তাদের লভ্যাংশ পেয়েছেন। হুমকির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, সমিতি কোনো গ্রাহকের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন করেনি। পত্নীতলা থানার অফিসার ইন চার্জ নিয়ামুল হক অভিযোগ সম্পর্কে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।