শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

জীবননগর-মহেশপুর রাস্তার সংস্কার কাজ তিন বছর পরও সম্পন্ন হয়নি

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 53 মিনিট আগে | সারাদেশ

Administrator

জীবননগর-মহেশপুর রাস্তার সংস্কার কাজ তিন বছর পরও সম্পন্ন হয়নি

তিন বছর পূর্ণ হয়েও জীবননগর-মহেশপুর সড়কের মাত্র ৩০০ ফুট সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে এলাকাবাসী দুর্ঘটনা ও কাদাপানির মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছেন। সরকারি জমিতে অবৈধ দোকান সড়কের ড্রেইন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জিঙাইদহ জেলার মহেশপুর ও জীবননগর উপজেলা সংলগ্ন হাসাদাহ-মহেশপুর সড়কটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে এখানে দৈনিক দুর্ঘটনা ঘটছে। এই সংযোগ পথে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ কোনো ধরনের স্বস্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে বাধ্য। সংস্কার প্রকল্পের কাজ থেমে রয়েছে প্রায় তিন বছর ধরে, যার ফলে এলাকার জনগণ অসহনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে রাস্তাটি অগণিত গভীর ও অগভীর গর্তে পূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলো জলে ভেসে যায় এবং সম্পূর্ণ পথটি কাদাপানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। রাস্তা ও পানিযুক্ত গর্তের পার্থক্য চিনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। যানবাহন চলার সময় ছিটকে পড়া কাদা পথচারীদের পোশাক বিনষ্ট করে। মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং অটোরিকশার মতো যেকোনো বাহনের জন্য এই রাস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় শিক্ষক ফরমান আলী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, 'এই সড়কের পাশেই আমার আবাসস্থান এবং জীবননগরে যাওয়ার জন্য এই পথ ব্যবহার করি নিয়মিত। ঠিকাদার সংস্থা মাত্র তিনশ ফুট রাস্তা নির্মাণে তিন বছরের মতো সময় ব্যয় করেছে—এটি আসলেই বেদনাদায়ক। এমন অবস্থায় সংলগ্ন এলাকা এবং দুটি প্রশাসনিক এলাকার নাগরিকরা তুলনাহীন ভোগান্তি সহ্য করছেন। আমরা দ্রুত এই কাজের সমাপ্তি দাবি করছি।' নিয়মিত যাত্রী অনিক ইসলাম বর্ণনা করেন, 'বর্ষাকালীন সময়ে এই রাস্তার উপর চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কাদার কারণে মোটরসাইকেলের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি সর্বদা থেকে যায়। এই পরিস্থিতি নিরসনের জন্য দ্রুত রাস্তা সংস্কার অত্যাবশ্যক।'

কলেজগামী ছাত্রী লাবনী খাতুন মন্তব্য করেছেন, 'প্রতিটি কলেজের দিন আমি এই রাস্তায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। বর্ষাকালে কাদা-পানি আমার পোশাক সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়। সুরক্ষিত এবং সহজ যাতায়াতের জন্য এই সড়কের জরুরি মেরামত প্রয়োজন।' স্কুলশিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন যোগ করেন, 'স্কুলে পৌঁছানো এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এই রাস্তার দুর্বল পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন হড়কে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই এক্ষুনি একটি সঠিক এবং নিরাপদ রাস্তা।'

জীবননগর উপজেলার প্রকৌশলী আল আমিন জানিয়েছেন, হাসাদাহ-মহেশপুর পথের তিনশ ফুটব্যাপী খণ্ড দীর্ঘকাল ধরে নির্মাণকাজ স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। এই অংশে উভয় পাশে নর্দমা নির্মাণের পরিকল্পনা বিদ্যমান। কিন্তু সার্বভৌম ভূমিতে অনৈতিকভাবে তৈরি কয়েকটি প্রাচীন দোকান নর্দমা নির্মাণের পথে প্রধান বাধা। দোকান স্থানান্তরের বিষয়ে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। দোকান পরিবারগুলি যদি তাদের দোকান অপসারণ করে নেয়, তাহলে রাস্তা নির্মাণ এবং নর্দমা কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।