রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে প্রাণহানি: দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতার অভাব না প্রকৃতির রোষ?

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 52 মিনিট আগে | সারাদেশ
খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে প্রাণহানি: দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতার অভাব না প্রকৃতির রোষ?

খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের করুণ মৃত্যু। পাহাড়ি জনপদে কেন বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি এবং অকাল মৃত্যু রোধে করণীয় কী, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

পাহাড়ে বজ্রপাতের ভয়াবহতা

খাগড়াছড়ির জনপদ শনিবার রাতে এক মর্মান্তিক শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রকৃতি তার রুদ্রমূর্তি ধারণ করে কেড়ে নিল তিনটি প্রাণ। মহালছড়ি ও সদর উপজেলায় বজ্রপাতে স্বামী-স্ত্রীসহ মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে বজ্রপাতের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনজীবনের জন্য নতুন এক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও মর্মান্তিক পরিণতি

শনিবার সন্ধ্যায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামার সময় মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নে ঘটে বিপত্তি। স্থানীয় সূত্র জানায়, উচিংমং মারমা (৫৫) ও তার স্ত্রী হ্লাপাই মারমা (৫২) দিনের কাজ শেষে ঝিরিতে গোসল করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। একই সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান শোভা চাকমা (২৮) নামের এক যুবক। এই অকাল মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

দুর্যোগের ঝুঁকি ও আমাদের করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাগড়াছড়ির মতো পাহাড়ি এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ স্থান এবং খোলা জায়গায় কাজের সময় মানুষ অধিক ঝুঁকিতে থাকেন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে প্রচার আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে পারে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তির মোকাবিলায় কেবল সচেতনতাই পারে অকাল মৃত্যু রোধ করতে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।