সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বুধবার, সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে
Administrator
আপিল বিভাগ বুধবার চূড়ান্ত রায় দেবে সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে। নুরুল আমিন হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য আবেদন করেছেন।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে প্রস্তুত। এই সিদ্ধান্তে জানা যাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-२ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধতা নিয়ে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা স্থগিত করা হবে কিনা।
এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার তিনি চার সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করে বুধবারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিন নির্ধারণ করেন।
প্রধান বিচারপতির সাথে এই বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত আছেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
একই নির্বাচন আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন হাই কোর্টের রায় স্থগিত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। ১२ জুলাই তিনি এই আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দাখিল করেন এবং পরের দিন ১३ জুলাই তা চেম্বার আদালতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
চেম্বার আদালত সেই আবেদন ১९ জুলাইতে নিয়মিত বেঞ্চে শোনানির জন্য নির্ধারণ করেছিল। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল মঙ্গলবার ফয়সালা দেওয়ার, তবে আপিল বিভাগ বিষয়টি আরও গভীর বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বুধবারে সিদ্ধান্ত প্রদানের সময় পরিবর্তন করে।
উল্লেখ্য, মুহাম্মদ নুরুল আমিন এই আবেদন জমা দেওয়ার পূর্বেই সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটি ঘটেছিল জুলাই ९ তারিখে।
শুনানিতে মুহাম্মদ নুরুল আমিনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
বিপরীতে, সরোয়ার আলমগীরের আইনি প্রতিনিধিত্বে নিয়োজিত ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম এবং এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
শুনানির সমাপ্তিতে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বিবৃতি দিয়ে বলেন: "আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আমরা আদালতে মূলত হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা এবং সরোয়ার আলমগীর যাতে জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশনে যোগ দিতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ চেয়েছি।"
এই বিরোধের শুরু ১२ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। সেই নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র পরীক্ষায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ অনুমোদন করেছিলেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধ করে মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। তার দাবি ছিল সরোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ।
মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আবেদনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। १८ জানুয়ারি তারা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরোয়ার আলমগীর আদালতের শরণাপন্ন হন। १९ জানুয়ারি তিনি হাই কোর্টে রিট আবেদন জমা দেন এবং প্রাথমিক শুনানিতেই হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।
হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনি চ্যালেঞ্জ জানান মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
३ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ শোনানির পর লিভ টু আপিল অনুমোদন করে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সরোয়ার আলমগীর १२ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের নির্বাচন ফলাফল প্রকাশনা স্থগিত থাকবে।
নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করে ১ লাখ ३८ হাজার ५४५ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ নুরুল আমিন ६२ হাজার १६० ভোট লাভ করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে, যার ফলে সরোয়ার শপথ নেওয়া থেকে বাধাগ্রস্ত হন।
সরোয়ার গেজেট প্রকাশ এবং শপথ নেওয়ার অনুমোদন পেতে আপিল বিভাগে নতুন আবেদন করেন। জুন १६ তারিখে আপিল বিভাগ মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
হাই কোর্ট ९ জুলাই চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করে আদেশ ঘোষণা করে। এই আদেশে আদালত সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে।
হাই কোর্টের আদেশ ঘোষণার দিনেই নুরুল আমিনের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান যে আদেশের সম্পূর্ণ কপি পেলে তারা আপিল করার পদক্ষেপ নেবেন।
তবে সেই একই দিনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সরোয়ারকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। সন্ধ্যায় তিনি সংসদে উপস্থিত হয়ে সদস্যপদের শপথ নেন।
হাই কোর্টের আদেশের সম্পূর্ণ কপি প্রকাশের আগেই গেজেট প্রকাশ এবং শপথ অনুষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির নির্বাচন কমিশনকে লিগ্যাল নোটিস পাঠান।
তিনি উল্লেখ করেন: "হাই কোর্টের আদেশের কোনো কপি বের হয়নি, আদেশ লেখা হয়নি এবং সইও হয়নি। কোর্টের কোনো কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়নি। হঠাৎ করে শুনলাম নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।"
এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে পুনরায় আবেদন জমা দেন জুলাই १२ তারিখে। তার আবেদনে হাই কোর্টের আদেশ কার্যকর করা স্থগিত করতে এবং সরোয়ার সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।