বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলায় সিআইডিকে ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 9 ঘন্টা আগে | জাতীয়

Administrator

সালমান শাহ হত্যা মামলায় সিআইডিকে ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট দাখিল করতে পারেননি; আদালত আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত নতুন সময়সীমা দিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আদালতে যে হত্যা মামলার রোজনামচা রয়েছে, সেখানে অভিনেতা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক এবং আরও ১০ জনের নাম রয়েছে। সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ নিয়ে এই মামলা দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ তা সম্পন্ন করতে পারেননি, যার ফলে আদালত পরবর্তী সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

আসামিদের তালিকায় থাকা সামিরার মাতা লতিফা হক লিও, চলচ্চিত্রের নেতৃস্থানীয় খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, এবং শিল্প মহলের পরিচিত ব্যক্তিত্ব আজিজ মোহাম্মদ ভাই ছাড়াও ডেবিট, জাভেদ, ফারুক নামের ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ মামলার আসামি। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন যে ম্যাজিস্ট্রেট ২০২৬ সালের ৩০ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী সময়সীমা ঘোষণা করেছেন।

গত বছরের অক্টোবর মাসে সালমান শাহের জীবন নিয়ে এক দীর্ঘ আইনি সংকট শুরু হয়েছিল যখন তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই মামলাটি দাখিল করেছিলেন। তবে এই ঘটনার মূল সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের দিকে, যখন সেপ্টেম্বর মাসের ছয় তারিখে ইস্কাটন এলাকায় তার আবাসস্থল থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই সময় চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় একটি নাম।

ছেলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু নিয়ে প্রথমে যে মামলা হয়েছিল তা ছিল অপমৃত্যুর, যা সালমানের পিতা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী দাখিল করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী বছরের জুলাই মাসে এটি রূপান্তরিত হয়ে হত্যা মামলায় পরিণত হয় যখন তার পিতা দাবি করেন যে ছেলেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। সিআইডি তখন অপমৃত্যু এবং হত্যা সন্দেহ উভয় বিষয়েই তদন্ত করার আদেশ পায়। তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টে সিআইডি বলেছিল যে সালমান নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

কমরউদ্দিন চৌধুরী সিআইডির সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে রিভিশন মামলা করেন, যার ফলে আদালত ২০০৩ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করে। একযোগে এগারো বছর অতিবাহিত হওয়ার পর মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক ২০১৪ সালে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যেখানেও হত্যার অভিযোগ বাতিল করা হয়। কিন্তু সালমানের পিতার মৃত্যুর পরেও তার মা নীলা চৌধুরী মামলা অব্যাহত রাখেন এবং ২০১৫ সালে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান, এগারোজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

প্রাথমিক পর্যায়ের পর মামলাটি র‌্যাব বাহিনীর কাছে চলে যায়। রাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও ২০১৬ সালে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে আরও তদন্ত চালিয়ে যেতে নিষেধ করেন। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই দায়িত্বভার গ্রহণ করে এবং চার বছরের তদন্তের শেষে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাপনী প্রতিবেদন দাখিল করে। তাদের রিপোর্টে বলা হয় যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৫৪ জন সাক্ষীর বিবৃতি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করলে কোনো হত্যার সূত্র পাওয়া যায় না।

পিবিআই তাদের অনুসন্ধানে নিশ্চিত করে যে সালমান তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মনস্তাপ্পন্ন ছিলেন, বিশেষত চিত্রনায়িকা শাবনূরের সাথে সম্পর্কজনিত পারিবারিক বিরোধ এবং স্ত্রী সামিরাকে ঘরে রাখার সিদ্ধান্তের ফলে তার মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কষ্ট থেকেই সম্ভবত আত্মঘাতের পথ নির্বাচন করেছিলেন। এই প্রতিবেদনে নীলা চৌধুরী সন্তুষ্ট না হয়ে আরও তদন্ত চেয়ে আবেদন করেন। ২০২১ সালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআই রিপোর্ট অনুযায়ী সকল আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন।

নীলা চৌধুরী পরবর্তীতে উচ্চতর আদালতে রিভিশন আবেদন করেন, যা ২০২২ সালে গৃহীত হয় কিন্তু বিভিন্ন কারণে শুনানি সম্পন্ন হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে ঢাকার ছয় নম্বর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলাটি নতুন করে হত্যা মামলা হিসেবে সিআইডির কাছে তদন্তের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সালমানের দেহাবশেষ নিয়ে নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছে। গত মে মাসে তদন্ত দল কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চায়, যা পরবর্তী সপ্তাহে অনুমোদিত হয় এবং নতুন পোস্টমর্টেম পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তবে আইনি জটিলতার কারণে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। জুন মাসের শেষে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয় এবং সেই ফরমান ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।