সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত
Administrator
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের কারণে বহিষ্কার করেছে, এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে তার সংগঠন থেকে বের করে দিয়েছে। গত বুধবার তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী নজরুল এ পর্যন্ত তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং ১৯৯১ সাল থেকে একই আসন প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
নৈতিক স্খলনের প্রমাণ খুঁজে পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবিধানের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বহিষ্কার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা শফিকুর রহমান যার নেতৃত্বে পরিষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই পদক্ষেপ অনুমোদিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয়েছে।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তদন্তে যে নৈতিক লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো বিয়ের আগে সেই তরুণী নারীর সাথে একাধিকবার সাক্ষাৎ করা। তদন্ত কমিটি এই কাজকে 'পর্দা লঙ্ঘন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংগঠনের সুনাম এবং গণগ্রহণযোগ্যতার উপর এই ঘটনা ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দলের নেতৃত্ব মনে করে। এই কারণেই শুধুমাত্র দল থেকে সদস্য পদ কাটলে যথেষ্ট হবে না বলে সম্পূর্ণ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজী নজরুলের একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জামায়াতের অনেক কর্মী এবং নেতা এই ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি বলে দাবি করেন। কিন্তু পরের দিন স্বয়ং গাজী নজরুল তার ফেসবুক পৃষ্ঠায় একটি বিবৃতি দিয়ে জানান যে ভিডিওতে থাকা নারীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং তাদের বিয়ে গত ১৭ জুন তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিসহ সম্পন্ন হয়েছে।
জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যিনি নিজেই সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য। কমিটিতে কেন্দ্রীয় স্তর থেকে সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কমিটি গাজী নজরুলের প্রথম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী উভয়ের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা করেছে।
জামায়াত সূত্র থেকে জানা যায়, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তার নিজের একজন আত্মীয়। তিনি যখন ঢাকায় থাকতেন, তখন মাঝেমধ্যে এই আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করতেন। দলের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদিও মন্তব্য করেছেন যে গাজী নজরুল একটি নির্দিষ্ট চক্রের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছেন, তবে সংগঠনের অবস্থান পরিষ্কার থেকেই গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াত থেকে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে এই পদক্ষেপটি দলের গত বুধবারের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হবে। দলের নেতৃত্ব মনে করে যে এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এবং সংসদ স্পিকারের উপর বর্তায়। জামায়াতের ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঐতিহাসিকভাবে এ ধরনের পদক্ষেপে প্রথম স্পিকারকে এবং পরে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, যদিও এই ক্ষেত্রে দ্বিমুখী বার্তা প্রেরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। একাধিক মেয়াদে সংসদে তার উপস্থিতি সংগঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রতিফলিত করে। তবে এই ঘটনার পরে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার একটি গুরুতর ধাক্কা খেয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।