শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

শিশুদের কেন্দ্রে 'জুলাই জাগরণ সিজন-২', ১ থেকে ৪ আগস্ট জাতীয় জাদুঘরে চার দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | জাতীয়

Administrator

শিশুদের কেন্দ্রে 'জুলাই জাগরণ সিজন-২', ১ থেকে ৪ আগস্ট জাতীয় জাদুঘরে চার দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনে শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব আগামী মাসের প্রথম চার দিন জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চলচ্চিত্র, প্রদর্শনী এবং শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হবে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জাতীয় জাদুঘরের শাহবাগ অবস্থানে সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী একটি চার দিনের শিশু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে প্রস্তুত। 'জুলাই জাগরণ সিজন-২' নামে পরিচিত এই উৎসবটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিক স্মরণ উদযাপনে আয়োজিত হবে এবং আগামী মাসের প্রথম চার দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং সংগঠনের প্রচার-বিভাগের দায়িত্বশীল এস এম ফরহাদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের সাধারণ সম্পাদকও, সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এই উৎসবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি করে চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র এবং ডকুফিল্ম নিয়ে প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন থাকছে। মঞ্চনাটক এবং আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু শিল্পীদের উপস্থাপনা থেকে আসবে। গত বছরের ধরে 'আয়নাঘর' নামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছিল, যা এবার আরও বৃহত্তর পরিসরে এবং উন্নত উপস্থাপনায় নিয়ে আসা হবে।

শিশুদের বিনোদন ও অংশগ্রহণের জন্য একটি নিবেদিত 'কিডস জোন' তৈরি করা হয়েছে যেখানে তারা বিভিন্ন খেলায় যোগ দিতে পারবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থানগুলির ক্ষুদ্র মডেল প্রদর্শন করে একটি 'মিনিয়েচার জোন' স্থাপন করা হবে। এছাড়াও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সম্মান প্রদর্শনের জন্য 'কবরস্থান কর্নার' রাখা হয়েছে।

সিবগাতুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে বহু শিশু এখনো ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ দেখার সুযোগ পায়নি, তাই একটি 'জুলাই বায়োস্কোপ' বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। 'জুলাইয়ের ধ্বংসযজ্ঞ' এবং 'বখতিয়ার থেকে জুলাই' শিরোনামের প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করা হবে। 'আইকনিক কর্নার' বিভাগে আবু সাঈদ এবং মুগ্ধসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া অসংখ্য শহীদের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলি ক্যারিকেচার শিল্পের মাধ্যমে প্রদর্শিত হবে।

এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিশুদের অবদান, ত্যাগ এবং স্মৃতিকে জাতির সামনে প্রতিষ্ঠিত করা। শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জুলাইয়ের বর্ণনা, তাদের আবেগ, স্বপ্ন, ভয় এবং সাহসিক কর্মকাণ্ড শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠন করা। এর পাশাপাশি জাতির নিজস্ব বিশ্বাস, সহস্রাব্দীর ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও স্বাস্থ্যকর সাংস্কৃতিক প্রবাহ এগিয়ে নেওয়াও ছিল সেই আকাঙ্ক্ষার অংশ। সিবগা অভিযোগ করেছেন যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই আদর্শের যথাযথ প্রতিফলন আজও দৃশ্যমান নয়। বরং পূর্ববর্তী সাংস্কৃতিক আধিপত্যশীল শক্তিগুলি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে জনগণ ও ছাত্রদের অর্জনকে হীন করার চেষ্টা করছে। এই শক্তিগুলি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে সন্দেহের আওতায় আনতে এবং ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তাদের মতামত।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।