বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বেবিচক দল সৌদিতে: বিমান সেবা সম্প্রসারণ ও স্লট সমস্যার সমাধানে আলোচনা

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 2 দিন আগে | জাতীয়

Administrator

বেবিচক দল সৌদিতে: বিমান সেবা সম্প্রসারণ ও স্লট সমস্যার সমাধানে আলোচনা

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান সেবা সম্প্রসারণ এবং স্লট ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানের জন্য বেবিচক প্রতিনিধি দল সোমবার মধ্যরাত্রিতে সৌদিতে যাচ্ছে। বর্তমান ৪৯টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৮৪টিতে বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় থাকবে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

সোমবার মধ্যরাত্রিতে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বেবিচকের একটি তিন সদস্যীয় প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকীকরণ এবং ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সফর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ ছিদ্দিক এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তার সঙ্গী হবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) ড. এবিএম মাহবুব আলম এবং বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সফিউল আজম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা রওনা হবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সাপ্তাহিক ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বছরব্যাপী ওমরাহ ও হজ যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে এই সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে বাংলাদেশ মনে করছে। এই কারণে বাংলাদেশ সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা ৮৪টিতে বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে, যার অর্থ বর্তমান ৪৯টির সাথে আরও ৩৫টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট যোগ করা।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনার দিকে ফ্লাইট বৃদ্ধি পাবে। ফলে যাত্রীদের জন্য টিকিট সংকট হ্রাস পাবে এবং ভাড়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

হজ মৌসুমে বাংলাদেশি বিমান সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং এবং টেক-অফের জন্য নির্ধারিত সময় (স্লট) পেতে উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অপ্রত্যাশিত সময়ে ল্যান্ডিং অনুমোদন বা হঠাৎ সময়সূচী পরিবর্তনের কারণে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কখনও কখনও ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলও ঘটে, যা প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সম্পূর্ণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং বিমান সংস্থাগুলির জন্য অতিরিক্ত খরচ বাড়ায়।

দীর্ঘকাল ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে পছন্দের সময়ে এবং ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক সময়ে স্লট পেতে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। মধ্যরাত্রি বা অযুক্তিসঙ্গত সময়ে স্লট নির্ধারণের ফলে যাত্রী ও পরিচালনা উভয় ক্ষেত্রেই অসুবিধা বৃদ্ধি পায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আসন্ন আলোচনায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলি যাতে এই ধরনের সমস্যা এড়াতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।

এবারের সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা সৌদি আরবের স্লট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এই সভায় বিমান বাংলাদেশ এবং ইউএস–বাংলার প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রমে আসা সমস্যা এবং উপযুক্ত সময়ে স্লট পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

বেবিচকের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছসার মাহমুদ জানান, দুই দেশের মধ্যে বিমান সংযোগ বৃদ্ধির চুক্তি চূড়ান্ত করতে বেবিচকের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল সৌদিতে যাচ্ছেন। এই সফরে বিমান পরিবহন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।