নির্বাচনের পরও রাষ্ট্র ও প্রশাসনে প্রত্যাশিত রূপান্তর আসেনি: মির্জা ফখরুলের উদ্বেগ
Administrator
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের পর এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরেও রাষ্ট্র ও প্রশাসনযন্ত্রে প্রত্যাশিত সংস্কার আসেনি। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের মানসিকতায় প্রকৃত পরিবর্তন না হলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ সার্থক হবে না।
স্থানীয় সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হয়েছে, অথচ তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রশাসনের মূল কাঠামোয় কোনো প্রকৃত পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের যে ত্যাগ ঘটেছে, তা রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এই বিষয়ে তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, 'আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি।' সার্কিট হাউস এলাকার এই অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রকাশনা উন্মোচন এবং একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মহাসচিব আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন যে, ঘুষখোর দায়িত্বশীলরা এখনও অবৈধ সুবিধা নেওয়ার নানা কৌশল খুঁজে বের করছে এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করত, তারা এখনও তা অব্যাহত রেখেছে। লোকজন তাদের আচরণ ও মূল্যবোধ পরিবর্তন করছে শুধু বাহ্যিকভাবে, কিন্তু মানসিকতার গভীর পরিবর্তন ঘটছে না। এ কারণে যারা আসলে জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিল, সেই প্রকৃত যোদ্ধাদের থেকে বহু মানুষ এখন নতুন পোশাক পরে নিজেদের বৈপ্লবিক দাবি করছে।
এই বক্তব্যগুলি দুঃখ ও হতাশার সাথে উপস্থাপন করে মির্জা ফখরুল জানান, 'আমি বছরের পর বছর ধরে অনেক কিছু দেখেছি এবং বুঝেছি বলে এই কথা বলছি। এ বার সত্যিকারের পরিবর্তনটা আমি নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আজও সেই রকম কোনো রূপান্তরণ ঘটেনি।'
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।