শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নির্বাচন বছরে জামায়াতের আয় হ্রাস, ব্যয় বৃদ্ধি

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 দিন আগে | রাজনীতি

Administrator

নির্বাচন বছরে জামায়াতের আয় হ্রাস, ব্যয় বৃদ্ধি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বছরে জামায়াতে ইসলামীর আয় ১৮ শতাংশ কমেছে এবং ব্যয় রাজস্বকে অতিক্রম করেছে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সর্বশেষ অডিট রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জামায়াতে ইসলামীর ব্যয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বছরে আয়ের পরিমাণকে ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী এই বছর দলটির আয় আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

দলটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ পঞ্জিকা বছরে জামায়াত ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে। একই সময়ে সংস্থার খরচ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকায়।

পূর্ববর্তী বছর, যা অভ্যুত্থানের বছর হিসেবে পরিচিত ২০২৪ সালে জামায়াত ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা আয় দেখিয়েছিল। সেই বছরের ব্যয় ছিল ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা।

বর্তমান নির্বাচন বছরে দলটির ব্যয় আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সেক্রেটারি আখতার আহমেদকে প্রতিবেদনটি প্রদান করেন। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই নিরীক্ষিত রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছেন।

প্রস্তুত প্রতিবেদনে জামায়াতের তহবিলের সামগ্রিক বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে পূর্ববর্তী বছরের শুরুতে দলটির কোষাগারে ১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ছিল। চলতি সময়ে জামায়াত নগদ হিসেবে ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা ধারণ করছে এবং ব্যাংকে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা জমা রাখা আছে।

২০০৮ সালে দেশে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামী সরকারি অনুমোদন লাভ করেছিল এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।

তবে পরবর্তীতে ২০১৩ সালে হাই কোর্টের একটি রায়ে দলটির নিবন্ধন স্থগিত হয়ে যায়। দুই বছর পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে সংঘটিত অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হয়। এরপর সেই বছরের অক্টোবরে আপিল বিভাগের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামী তার নিবন্ধন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

দীর্ঘকাল পর নিবন্ধন ফিরে পেয়ে জামায়াত বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন করে অতীত বছরগুলির আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া শুরু করে।

দশম থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জামায়াত কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ৬৮টি আসনে সফল হয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দল প্রতি বছর জুলাইয়ের ৩১ তারিখের মধ্যে তাদের পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের সম্পূর্ণ নিরীক্ষিত বিবরণ জমা প্রদান করতে বাধ্য। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে মোট ৫৯টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।