বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ আসন: গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সংবিধান কী বলে

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | জাতীয়

Administrator

দলীয় বহিষ্কার এবং সংসদ আসন: গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সংবিধান কী বলে

গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিষ্কার করেছে। তার সংসদ আসন খালি হবে কিনা তা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে কোনো সংসদ সদস্যের বহিষ্কার ঘটলে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে এই মত ব্যক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। বুধবার (২২ জুলাই) মিডিয়া প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে তিনি এই বিবৃতি প্রদান করেন।

দলীয় নির্দেশনায় বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের পদ বজায় থাকবে কিনা এবং সেই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কিনা—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এই মতামত রাখেন।

এই ব্যাপারে রাজনীতি ও আইনের মূলনীতি বিবেচনা করে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত প্রতিটি জনপ্রতিনিধির পরিচয় এবং আইনি অধিকার গভীরভাবে দলের কাঠামোর সাথে সংযুক্ত। যখন কোনো দল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন বাতিল করে, তখন সেই আসন খালি হওয়া একটি স্বাভাবিক আইনি পরিণতি।

তবে এ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথি বা আনুষ্ঠানিক পত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনও পৌঁছায়নি বলে জানান কমিশনার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে, যার পরে গাজী নজরুল ইসলাম তার সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে একটি জরুরি সভার আয়োজন করে। এই সভায় গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মাধ্যমে দলের এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির বিবৃতিতে জানানো হয় যে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। দলের আমির শফিকুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার সময় ছিল বিকেল চারটা।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করেছে জামায়াত। এই তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক ত্রুটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাথে সাথে নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার প্রতিশ্রুতিও ঘোষণা করা হয়।

অবশ্য এমপি পদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি দলীয় বহিষ্কারের উপর নির্ভর করে না। এটি সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা ব্যাখ্যা এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।

এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তার আসন শূন্য হবে। তবে উল্লেখ্য যে এই অনুচ্ছেদে 'দল থেকে বহিষ্কার'ের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

কোনো সংসদ সদস্য ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় আসন হারিয়েছেন কিনা এই নিয়ে যদি কোনো বিবাদ হয়, তাহলে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ের সমাধান করবে এবং তাদের রায় চূড়ান্ত হবে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতেও এই ধরনের বিষয় স্পিকারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।

সংবিধানের ৬৬(৪) ধারা স্পষ্টভাবে বলা আছে যে নির্বাচনের পর কোনো সংসদ সদস্য অযোগ্য হয়েছেন কিনা অথবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হবে কিনা—এই জাতীয় যেকোনো প্রশ্নে শ্রবণ ও সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রেরণ করা হয় এবং সেই ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

সুপ্রিমকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী শিশির মনির বুধবার (২২ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মন্তব্য করেছেন যে গাজী নজরুল ইসলাম তার এমপি পদ হারাবেন। তার যুক্তি হলো জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যখন তিনি নিজে থেকে দল থেকে পদত্যাগ করেননি। তাই জামায়াতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।