বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জাফর আহমদ দুর্নীতিতে দোষী, সাত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | জাতীয়

Administrator

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জাফর আহমদ দুর্নীতিতে দোষী, সাত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জাফর আহমদ দুর্নীতির দায়ে ৭ বছরের জেল এবং ৮ কোটি টাকা জরিমানার বিচার শুনেছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে একটি রায় ঘোষণা করেছেন। এতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে অবৈধ সম্পদ সৃষ্টি এবং এর তথ্য গোপনের অপরাধে সাত বছরের কঠোর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন জাফর আহমদ—সংগঠনটির বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কক্সবাজার-৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির প্রতি তার ঘনিষ্ঠতার জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন এই রায়ের তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং এর তথ্য গোপনের মামলায় আদালত জাফর আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এর পাশাপাশি তাকে আট কোটি টাকার আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মতে, চট্টগ্রামের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল জাফরের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পাঁচ বছর পরে ২০২৪ সালের ১৫ মে অভিযোগপত্র আদালতে সরবরাহ করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে জাফর আহমদ তার জনপ্রতিনিধির পদ-ক্ষমতা অপব্যবহার করে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকার আর্থিক এবং অরণ্যিক সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। দুদকের তদন্ত মোতাবেক জাফরের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। এ থেকে পারিবারিক ও অন্যান্য বৈধ ব্যয় বাবদ তিনি ৫৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তার বৈধ আয় নির্ধারিত হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফলস্বরূপ জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধ সম্পদ নির্ণীত হয় ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার টাকায়। এই অর্জিত সম্পদের মধ্যে টেকনাফে তার কৃষিভূমি ও ব্যাংক ডিপোজিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ বছরের ৫ মে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। সাক্ষ্য গ্রহণে মোট ১৮ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সাহেদ প্রথম আলোর সাথে কথা বলে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি জাফর আহমদ কাঠগড়ায় সরাসরি উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত শোনেন। রায়ের অবিলম্বে আদালতের সিদ্ধান্তক্রমে তাকে বন্ধনাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।