জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও দুর্নীতিতে রুখ দিতে ৫ আগস্ট পল্টনে একযোগে জমায়েত ১১ দল
Administrator
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একাধিক দলের জোট জনগণের রায়কে সম্মান করানোর জন্য পাঁচ আগস্ট পল্টনে একটি কর্মসূচির আয়োজন করছে, যেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সরকারি কাঠামোয় ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ পাবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত এগার দলের জোট আগামী পাঁচ আগস্ট পল্টনে একটি বৃহৎ জনসমাবেশ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তারা সরাসরি অবস্থান তুলে ধরবে। প্রধানত জুলাই সনদ কার্যকরকরণে সরকারের অগ্রসরতার অভাব, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সংযুক্ত নেতাদের অভূতপূর্ব নিয়োগ, এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া অনিয়মাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোট তাদের সোচ্চার অবস্থান জানাবে। বৃহস্পতিবার সান্ধ্য সময়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত এগার দলের সমন্বয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের মনোভাবের পরিবর্তন সম্পর্কে আযাদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। নির্বাচনের আগে স্বয়ং সরকারি দল জনগণকে এই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিল এবং তখনকার বিরোধী নেতা তারেক রহমানও একই অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু যখন জনমত এর সমর্থনে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিল, তখন থেকেই সরকার তার প্রাথমিক অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে। এভাবে সরকার লোকজনের রায়কে নিরাপদ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এটি আসলে জনগণের প্রতি চরম অবিশ্বাসের আচরণ বলে আযাদ মন্তব্য করেন।
আযাদ এরপর সরকারের অন্য একটি উদ্বেগজনক পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য দেন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও দপ্তরে যে হারে দলীয় কর্মী ও নেতাদের প্রবেশ ঘটেছে তা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। আযাদের মতে এই ধরনের পক্ষপাতপূর্ণ নিয়োগ জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যহীন। একইসাথে গোটা দেশজুড়ে সরকারি সংস্থাগুলিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। এই সব কারণে এগার দলের জোট পাঁচ আগস্ট পল্টনে একটি প্রভাবশালী সমাবেশের আয়োজন করছে।
এই সমন্বয় বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে যোগদান করেছেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মাজেদ আতহারী এবং বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ।
এই বৈঠকে নেওয়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো তিন আগস্ট শীর্ষ নেতৃবৃন্দের একটি সভা আয়োজন করা হবে যেখানে সমাবেশের চূড়ান্ত বিষয়বস্তু ও কর্মসূচি ঠিক করা হবে। বৈঠকে একই সাথে হবিগঞ্জ জেলায় সংঘটিত একটি সহিংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। জুলাই পদযাত্রা ২০২৬ নামের অনুষ্ঠানে এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সংযোগের লোকজন তরফ থেকে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনার দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।