চার দশকের নিবেদিত সেবায় খোন্দকার মিসবাহ ভাইস অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত
Administrator
দেশের নৌবাহিনীর নতুন প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদা লাভ করেছেন। চার দশকের সামরিক সেবা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার জন্য তাকে এ সম্মান প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান যৌথভাবে খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরালের সম্মান প্রদান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ নৌ সামরিক দায়িত্বে আসীন হওয়ার সাথে সাথে নতুন নৌবাহিনী প্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদা লাভ করেন।
এ মর্যাদা প্রদানের অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগীয় প্রশাসনে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন নৌপ্রধান এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এবং বাংলাদেশের সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন।
খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের দীর্ঘ এবং সম্মানজনক কর্মজীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালের প্রথম দিনে, যখন তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে প্রবেশ করেন। দুই বছরের মধ্যে তিনি নৌ বাহিনীর এক্সিকিউটিভ বাহিনীতে কমিশন অর্জন করেন।
তার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পটভূমি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানের। মালয়েশিয়ার রয়্যাল নৌ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি দেশ-বিদেশে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখেন। সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়স্তরের ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সামরিক পেশায় চল্লিশ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় খোন্দকার মিসবাহ নৌবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির অধিকারী ছিলেন। চট্টগ্রাম এবং ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, সাবমেরিন যুদ্ধ বাহিনীর প্রধান, এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির পরিচালক হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন। নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে অপারেশন এবং পরিকল্পনা বিভাগের অধিকর্তা হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কর্মসূচিতে লেবানন এবং কঙ্গোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পর তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময়ে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী পদক, সমুদ্র সেনা দক্ষতা পদক এবং জাতীয় সততা সম্মাননা সহ একাধিক পুরস্কার দিয়ে তার সাফল্য এবং নিবেদন স্বীকৃতি পায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, বিমান বাহিনীর প্রধান, সেনাবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা এবং সামরিক সেচিব সহ দেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।