শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

গলব্লাডারে পাথর সবসময় অস্ত্রোপচারের দাবি রাখে না

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 2 দিন আগে | লাইফস্টাইল

Administrator

গলব্লাডারে পাথর সবসময় অস্ত্রোপচারের দাবি রাখে না

পিত্তথলির পাথর থাকা মানে সবসময় সার্জারি প্রয়োজন নয়। কোন উপসর্গে অপারেশন জরুরি এবং আধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির সুবিধা সম্পর্কে জানুন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

পিত্তথলিতে পাথর হওয়া অনেক মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু এটি প্রতিটি রোগীর জন্য অস্ত্রোপচার নির্দেশ করে না। যখন পাথর নিজে থেকে কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না বা জটিলতার দিকে এগিয়ে যায় না, তখন সাধারণত অপারেশনের প্রয়োজন থাকে না।

পেটে ও বুকের নিচে তীব্র ব্যথা যা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এবং এই ব্যথা পেটের পিছনের দিকে বা কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়ে—এমন অবস্থায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।

পাথর যদি পিত্তনালিতে আটকে গিয়ে চোখ বা ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ করে অথবা প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়, এটাও সার্জারির সংকেত। তেমনি পিত্তথলিতে সংক্রমণ হয়ে জ্বর বা কাঁপুনি দেখা দিলেও চিকিৎসা জরুরি।

পাথরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও অনেক সময় অপারেশন লাগে। পিত্তথলির দেয়াল অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে গেলে, পাথর দুই সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হলে, অথবা অসংখ্য ছোট পাথর থাকলে, অথবা গলব্লাডার সম্পূর্ণভাবে কাজ হারিয়ে ফেললে সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।

নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্য অবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গহীন পাথরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, যাদের গলব্লাডারে এক সেন্টিমিটার বা বৃহত্তর পলিপ আছে, অথবা রক্তে সিকল সেল ডিজিজের মতো গুরুতর রোগ রয়েছে, তাদের জন্য পাথর থাকলেও অপারেশন করানোর সুপারিশ করা হয়।

আধুনিক সময়ে পিত্তথলির পাথর অপসারণ ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে করা হয়, যা পেটে বড় কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন দেয় না। এই পদ্ধতি খুবই সুরক্ষিত এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

যদি আপনার পেটে বা পিঠে তীব্র ব্যথা হচ্ছে, তার স্থায়িত্ব কতক্ষণ তা লক্ষ্য করুন। একই সাথে জন্ডিস, বমি ভাব বা জ্বরের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন। আপনার সর্বশেষ আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে পাথরের আকার এবং সংখ্যা যা উল্লেখ আছে তা নোট করে রাখুন।

এই তথ্যসহ বিশেষজ্ঞ সার্জনের কাছে পরামর্শ নিন। তবে মনে রাখবেন, যদি পেটে তীব্র ব্যথা পাঁচ ঘণ্টার বেশি থাকে, তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে জরুরি ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

ডা. এম এ করিম, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর ১৪, ঢাকা

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।