কাল ইয়োগা ডে, কেন পালন করা হয় ২১ জুন
Administrator
সুস্থ শরীর ও শান্ত মনের খোঁজে আগামীকাল রোববার (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হতে যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬’ (International Yoga Day 2026)। শরীর ও মনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি স্বাস্…
সুস্থ শরীর ও শান্ত মনের খোঁজে আগামীকাল রোববার (২১ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হতে যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬’ (International Yoga Day 2026)। শরীর ও মনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়।
চলতি বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের বিশেষ প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে—"Yoga for Healthy Ageing" অর্থাৎ, "সুস্থ ও সক্রিয় বার্ধক্যের জন্য যোগ"। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কীভাবে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষম, রোগমুক্ত এবং প্রাণবন্ত থাকতে পারে, এবারের থিমে সেই বিষয়টির ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
যোগ বা ইয়োগা কী?
‘যোগ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘যুজ’ থেকে, যার অর্থ যুক্ত করা বা একীভূত করা। এটি কেবল শারীরিক কিছু ব্যায়াম বা কসরত নয়; বরং শরীর, মন, চেতনা এবং প্রকৃতির মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখার প্রাচীন বিজ্ঞান। নিয়মিত যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ইতিহাস
যোগ দিবসের সূচনা হয়েছিল মূলত জাতিসংঘের হাত ধরে। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন:
"যোগ হলো ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অমূল্য উপহার। এটি মন ও শরীরের, চিন্তা ও কর্মের একাত্মতা রূপায়িত করে।"
পরবর্তীতে একই বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ১৭৫টি সদস্য দেশের সমর্থনে ২১ জুন দিনটিকে 'আন্তর্জাতিক যোগ দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২১ জুন বিশ্বজুড়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয় এবং ২০২৬ সালে এসে এটি দ্বাদশ (১২তম) আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।
কেন ২১ জুনকেই বেছে নেওয়া হলো?
২১ জুন তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে একটি বিশেষ ভৌগোলিক কারণ রয়েছে। এই দিনটি উত্তর গোলার্ধের ‘গ্রীষ্মকালীন সংক্রান্তি’ বা বছরের দীর্ঘতম দিন। প্রকৃতির এই বিশেষ দিনে সূর্যের শক্তি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকে। যোগবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সময়টি মানুষের শরীর ও মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এবারের থিম: "সুস্থ ও সক্রিয় বার্ধক্যের জন্য যোগ"
২০২৬ সালের থিমটি বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে ভীষণ সময়োপযোগী। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের পেশির শক্তি কমে, হাড়ের ক্ষয় হয় এবং মানসিক অবসাদ বা একাকীত্ব বাড়ে। এবারের থিমের মূল বার্তা হলো—নিয়মিত যোগচর্চা বার্ধক্যকে রোগাক্রান্ত ও অচল হতে দেয় না। যোগাসনের মাধ্যমে প্রবীণ বয়সেও মেরুদণ্ড সোজা রাখা, রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখা এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখা সম্ভব।
যোগ ব্যায়ামের প্রধান উপকারিতা
নিয়মিত যোগচর্চা মানুষের জীবনে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এর প্রধান কিছু সুফল নিচে দেওয়া হলো:
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হ্রাস: কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক ক্লান্তি ও বিষণ্ণতা দূর করতে ইয়োগা বা ধ্যানের বিকল্প নেই।
শারীরিক নমনীয়তা ও শক্তি বৃদ্ধি: এটি শরীরের পেশি ও হাড়ের জোড়গুলোকে সচল রাখে, ফলে বাতের ব্যথা বা শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হয়।
হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা: প্রাণায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
উন্নত ঘুম ও হজমশক্তি: অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে উদ্দীপিত করে হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আগামীকাল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং যোগচর্চা কেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ ইয়োগা সেশন, র্যালি ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।