শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

অ্যালগরিদম চালিত প্ল্যাটফর্ম কেন আপনার মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত করে—ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের বিশ্লেষণ

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | লাইফস্টাইল

Administrator

অ্যালগরিদম চালিত প্ল্যাটফর্ম কেন আপনার মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত করে—ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের বিশ্লেষণ

গবেষণা দেখাচ্ছে, অ্যালগরিদম-চালিত প্ল্যাটফর্ম যেমন ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটক মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে যোগাযোগ-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্মগুলি সাধারণত উপকারী।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং মানুষের সুখ-সন্তুষ্টির সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণার বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সব প্ল্যাটফর্ম একই ধরনের প্রভাব ফেলে না।

যোগাযোগ-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জীবনে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে মানুষ পরিচিত জনদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, পরিবার ও বন্ধুদের খোঁজখবর নেয় এবং বার্তা বিনিময় করে।

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং এক্স (সাবেক টুইটার) এর মতো অ্যালগরিদম-চালিত প্ল্যাটফর্মগুলি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এখানে ব্যবহারকারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যালগরিদম দ্বারা নির্বাচিত ভিডিও ও ছবি দেখে যান। এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবনযাত্রা, সুন্দরভাবে সাজানো মুহূর্ত এবং আকর্ষণীয় কনটেন্টের আধিক্য থাকে, যা অনেকের মধ্যে অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা সৃষ্টি করে।

ফলস্বরূপ, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে অত্যধিক সময় কাটালে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং জীবন সম্পর্কে অসন্তুষ্টির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

রাত জেগে ঘুমানোর আগে 'শুধু পাঁচ মিনিট' ভেবে ইনস্টাগ্রাম খুলেছিলেন। পরে জানতে পারলেন এক ঘণ্টা সময় কেটে গেছে। এই অঘোষিত ঘণ্টায় দেখেছেন অন্যদের বিশ্বভ্রমণ, বিলাসবহুল জীবন, নিখুঁত মুহূর্ত এবং সাফল্যের গল্প। ফোনটা নামিয়ে রেখে দেখলেন, নিজের জীবন কেমন খালি খালি লাগছে। এমন অনুভূতি কি শুধু আপনার? গবেষণা বলছে না, এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের সাধারণ অভিজ্ঞতা।

গবেষণায় একটি আশ্চর্যজনক উপাদান পাওয়া গেছে। যারা প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা তার কম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তারা একেবারেই ব্যবহার না করা মানুষের তুলনায় জীবনের কয়েকটি ক্ষেত্রে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন। কিন্তু গবেষণার অংশগ্রহণকারীদের গড় ব্যবহার ছিল প্রতিদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা, এবং এই পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ইয়ান-ইমানুয়েল ডে নেভ এ বিষয়ে 'গোল্ডিলকস নীতি'র উল্লেখ করেছেন। মানে, অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর, তবে সম্পূর্ণ বর্জনও সমাধান নয়; মধ্যপন্থী ব্যবহারই সবচেয়ে উপকারী হতে পারে।

তবে গবেষকদের মতে, চিত্রটি আরও জটিল। যেসব দেশে তরুণদের সুখের স্তর কম, সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই একমাত্র কারণ নয়। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, চাকরির নিরাপত্তার অভাব, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ এবং আর্থিক সংকট এর মতো বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। সেই কারণে শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রাম বা টিকটককে দায়ী করে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করার পরামর্শ দেন না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনি এটি কীভাবে ব্যবহার করছেন। নিম্নোক্ত অভ্যাসগুলি আপনাকে সাহায্য করতে পারে:

  • অপরিকল্পিত স্ক্রলিং এড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে ব্যবহার করুন।

  • বাস্তব জীবনের মানুষদের সাথে যোগাযোগকে প্রাধান্য দিন এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক আরও গভীর করুন।

  • ঘুমানোর আগে দীর্ঘসময় এই প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন।

  • অন্যের সাজানো ছবি ও জীবনের সাথে নিজের সত্যিকারের অভিজ্ঞতা তুলনা না করার চেষ্টা করুন।

  • আপনার ফোনের 'স্ক্রিন টাইম' বা 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং' নামের ফিচার ব্যবহার করে সময়ের সীমা নির্ধারণ করুন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসলে ভালো বা মন্দ, এটি এতটা সহজ প্রশ্ন নয়। যে প্ল্যাটফর্মগুলি আপনাকে প্রকৃত সম্পর্কের কাছাকাছি রাখে, সেগুলি সাধারণত উপকারী। কিন্তু যখন আপনি অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হারিয়ে যান, তখন এটি ধীরে ধীরে আপনার মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান এবং ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।