শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদ খালিতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মঞ্চের জরুরি সভা সন্ধ্যায়

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 6 দিন আগে | রাজনীতি

Administrator

রাষ্ট্রপতি পদ খালিতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মঞ্চের জরুরি সভা সন্ধ্যায়

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা করবে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিয়মিত সভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছে যখন নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের প্রশ্ন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। সভাটি সন্ধ্যা সাতটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের অফিসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দল সূত্র।

স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শুক্রবার সন্ধ্যায় এ খবর নিশ্চিত করেছেন। নিয়মিত নীতিনির্ধারণী বৈঠক হিসেবে এটি আহূত হলেও মঞ্চে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তেল-গ্যাসের মূল্য সহ বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা থাকতে পারে বলে টুকু উল্লেখ করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন এই সভার আলোচ্য বিষয় হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। মন্ত্রী টুকু জানিয়েছেন এ বিষয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন—তিনি বলেছেন রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় এ নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলার সুযোগ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার অভাব অবহিত করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর পাঁচ মাস আগে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এবং নির্বাচিত সরকারের শুরুতেও সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি উঠছিল। তিনি বারবার আশ্বস্ত করেছিলেন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি পদ ছাড়বেন। এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই তিনি গেলো ২২ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে যাওয়ার সংকেত দেন এবং দুই দিন পর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ সম্পন্ন করেন।

বর্তমান আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, যদিও এর আগেও নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়াদে আরও একবছর দেড় বছরের মতো বাকি ছিল সাহাবুদ্দিনের।

প্রেসিডেন্সিয়াল পদে সম্ভাব্য ছয়জন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্থায়ী কমিটি সদস্যরা জানিয়েছেন। এরা হলেন বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও সংবাদমাধ্যমে উল্লিখিত হয়েছে।

যাদের নাম জনসামনে এসেছে, তাদের মধ্যে কমপক্ষে দুই তিনজন অস্বস্তিবোধ করছেন বলে স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র রিপোর্ট করেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে অগ্রিম অভিনন্দন বার্তা এবং টেক্সট বার্তা পাওয়া শুরু হয়েছে, যা এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক বিব্রতিতা ফেলেছে।

বিএনপি এবং তার মিত্রদের সংখ্যাধিক্য ত্রয়োদশ সংসদে সুস্পষ্ট। বিএনপি স্বয়ং ২১০টি আসন জিতেছে। জামায়াতে ইসলামীনেতৃত্বাধীন জোট মাত্র ৭৭ আসন পেয়ে বিরোধী পক্ষে বসেছে, যখন জামায়াত একা ৬৮ আসন পেয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের অনুপাতিক বিতরণেও ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যায় এগিয়ে। ফলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি অবশ্যই ক্ষমতাসীন জোটের সদস্য হবেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরাসরি প্রার্থী নির্বাচনের আলোচনা হতে পারে না বলে কিছু দল সূত্র মনে করে। ঐতিহ্য অনুযায়ী বিএনপির নেতৃত্ব খালেদা জিয়ার উপর সিদ্ধান্তের ভার ন্যস্ত করে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শ গ্রহণ করে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সাধারণত সমর্থন নিশ্চিত করেন। বরং এবার নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে, সে পর্যন্ত প্রস্তুতি চলবে বলে অবগত ব্যক্তিরা জানান।

নির্বাচন কমিশন প্রধান এ এম এম নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি আইনগত প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সঠিক দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ অধিবেশনে থাকলে একভাবে এবং না থাকলে ভিন্ন পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে সিইসি জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়ন আবেদন গ্রহণ, যাচাই, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন এবং পরে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হয়েছিল। পরবর্তী অধিবেশন সেপ্টেম্বর বা তার আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী।

সিইসি আরও জানিয়েছেন তার দপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সংসদ সচিবালয় ভোটার তালিকা সরবরাহের জন্য অনুরোধ প্রাপ্ত হয়েছে। এই নির্বাচন আইন-কানুন অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনের সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।