বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন মুজাহিদুল ইসলাম: নেপথ্যের অজানা গল্প

4 ঘন্টা আগে | আপডেট: 20 মিনিট আগে | সারাদেশ
১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন মুজাহিদুল ইসলাম: নেপথ্যের অজানা গল্প

১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন মুজাহিদুল ইসলাম। নাপিতের দোকানের দীর্ঘ সিরিয়ালের বিরক্তি থেকে জন্ম নেওয়া এই অভ্যাস এখন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

অপেক্ষা থেকে আত্মনির্ভরশীলতার যাত্রা

দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো বিড়ম্বনা অনেক সময় মানুষের জীবনধারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। গত ১৭ বছর ধরে তিনি নিজের চুল নিজেই কাটছেন। আপাতদৃষ্টিতে একে সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াই, জেদ এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অদম্য ইচ্ছা।

কেন এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত?

২০০৬ সালের কথা। তখন মুজাহিদুল হাফেজি মাদরাসার শিক্ষার্থী। সপ্তাহের একমাত্র ছুটির দিন শুক্রবার, অথচ চুল কাটার জন্য নাপিতের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাওয়া ছিল দুঃসাধ্য। এক শুক্রবার দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চুল কাটাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই নিজের চুল কাটবেন। এই জেদ থেকেই বাজার থেকে কাঁচি ও চিরুনি কিনে আনা। প্রথম দিকে ভুলত্রুটি হলেও, সময়ের সাথে সাথে তিনি এই শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠেন।

শিক্ষণ প্রক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ

নিজে শেখার আগে তিনি মাদরাসার এক ছোট ভাইয়ের চুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাটি ছিল বেশ হাস্যকর ও বিব্রতকর। চুল কাটার পর ছেলেটি নিজের অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিল, যার ফলে মুজাহিদুলকে তাকে ন্যাড়া করে দিয়ে শান্ত করতে হয়েছিল। সেই ব্যর্থতা থেকেই তিনি চুল কাটার কৌশলগুলো নিখুঁতভাবে রপ্ত করেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এখনো নিজের চুল নিজে কাটার এই অভ্যাসটি ধরে রেখেছেন। এটি কেবল সময় বাঁচানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি তার কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি প্রতীক।

উপসংহার

মুজাহিদুল ইসলামের এই ১৭ বছরের যাত্রা আমাদের শেখায় যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করার উপায় অনেক সময় আমাদের হাতের কাছেই থাকে। কেবল প্রয়োজন প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং ধৈর্য। আজ তিনি একজন শিক্ষক হিসেবে যেমন প্রশংসিত, তেমনি তার এই অনাড়ম্বর ও আত্মনির্ভরশীল জীবনধারা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।