বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

শিক্ষার্থী সংসদ নেতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা: হল ছাড়া নিয়মের ব্যতিক্রম তৈরিতে ক্ষোভ

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 52 মিনিট আগে | জাতীয়

Administrator

শিক্ষার্থী সংসদ নেতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা: হল ছাড়া নিয়মের ব্যতিক্রম তৈরিতে ক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী সংসদ নেতাদের জন্য নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে থাকার অনুমতি দিয়েছে, যা বিদ্যমান নীতির ব্যতিক্রম এবং ক্যাম্পাসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আবাসিক হল ত্যাগ করতে বাধ্য থাকেন। তবে সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য এই নিয়মের ব্যতিক্রম সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাকসুর সদস্য এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গত বুধবার রাতের প্রায় ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে জানানো হয় যে জাকসু এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের পদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করতে পারবেন। এই অনুমতি পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হলেও হল ছাড়তে বাধ্য নন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮'-র ৫(ট) ধারা স্পষ্ট করে যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে। তবে চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স সর্বাধিক ছয় বছরে এবং এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর কোর্স সর্বোচ্চ দুই বছরে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে শিক্ষার্থী নিয়মিত মর্যাদা হারান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ জিতু একাডেমিক সিদ্ধান্তের কারণে নিয়মিত ছাত্রত্ব হারান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ (৪৭তম ব্যাচ) থেকে এসেছেন। শিক্ষার্থী নেতৃত্বের অবস্থান বজায় রাখতে তিনি একটি কোর্সের পরীক্ষা পরবর্তীতে দিতে চেয়েছিলেন, যা পরবর্তী ব্যাচের সাথে সম্ভব ছিল। কিন্তু তার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচ এই বছর স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর তিনি আর পরীক্ষা দেননি, ফলে তার নিয়মিত ছাত্রত্ব সমাপ্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম নিয়মকানুন মেনে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষে হল ত্যাগ করেন।

জিতুর হলে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এই পটভূমিতেই প্রশাসন তার নতুন সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে। যদিও জাকসু নেতৃত্ব থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত দাবি জানানো হয়নি, মৌখিক আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মাজহারুল ইসলাম এই বিজ্ঞপ্তিকে অভূতপূর্ব বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, 'আমি নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষে স্বেচ্ছায় হল ছেড়েছি। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন এবং এটি অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য হল অধিগ্রহণের পথ খুলে দিয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করি।'

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি আহসান লাবিব মনে করেন, শিক্ষার্থী সংসদের নেতাদের জন্য পৃথক নীতি তৈরি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, 'নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর সকল শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগ করতে হবে—এটাই প্রতিষ্ঠিত নীতি। জাকসু এবং হল সংসদের প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা বিধান কোন আইনের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়।'

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। শাখা আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিছানা কক্ষ থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল, কিন্তু ন্যায্য দাবি নিয়েও প্রশাসন সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ জাকসুর ক্ষেত্রে কোনো দাবি ছাড়াই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ জিতুর সাথে মুঠোফোনে এবং বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো মন্তব্য প্রদান করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল আহসানও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেননি।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান জানান যে গত মঙ্গলবারের প্রশাসনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, জাকসু পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনো আবেদন জানানো হয়নি। তবে কেউ মৌখিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।