শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এখন নিশ্চিত

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 49 মিনিট আগে | জাতীয়

Administrator

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এখন নিশ্চিত

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এখন অনিবার্য বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষনেতৃত্বের সাথে সরকার আলোচনা করছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন যে শীঘ্রই তাঁর পদ থেকে সরে যাবেন তা এখন সরকারি মহলে নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এবং সরকার একসাথে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জানা গেছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবসর নিয়ে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

সাহাবুদ্দিন এপ্রিলের ২৪ তারিখে ২০২৩ সালে দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হন। আইনের ধারা অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ছিল ২০২৮-এর এপ্রিল মাসে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময় দেশ ছেড়ে চলে যান। এর পরবর্তীতে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।

জুলাই আন্দোলনের পর ছাত্র-নেতারা তার অপসারণের দাবি জানায়। বঙ্গভবন অবরোধসহ একাধিক কর্মসূচি পরিচালনা করে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই দাবি তুলেছিল। কিন্তু তার পরে যে অন্তর্বর্তী সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়, সেই সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

ডিসেম্বরের ১২ তারিখে ২০২৫ সালে সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হওয়ার পর তিনি মেয়াদের মাঝপর্যায়ে পদত্যাগ করতে চান। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন যে ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ থেকে তিনি নিজেকে অপমানিত বোধ করেছেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে একটি সংবাদপত্রের সাথে সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি থাকবেন, না চাইলে নিজে থেকেই পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চলছে নানা আলোচনা, কিন্তু সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগের দাবি তোলেনি।

যদি সাহাবুদ্দিন সত্যিই পদত্যাগ করেন, তাহলে গত বছরের অভ্যুত্থান এবং এ বছরের জাতীয় নির্বাচনের পর এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। একই সাথে, বিএনপি সরকার গঠনের পর এবার প্রথম নিজেদের পছন্দের একজনকে প্রেসিডেন্ট করার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচন যেহেতু নতুন প্রেসিডেন্টের মেয়াদেই অনুষ্ঠিত হবে, তাই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন এই প্রশ্ন রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।