রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রশ্নে সরাসরি তার কাছেই প্রস্তাব, বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ
Administrator
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনে সরকার নিষ্ক্রিয় থাকার দাবি করছে, তবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আগে থেকেই নতুন সরকার গঠনের পর পদ ছাড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সোমবার এক ফেইসবুক বার্তা থেকে জাতীয় পর্যায়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আসন্ন দিনগুলোতে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখিয়ে পদ ছাড়তে চলেছেন। সেই পোস্টে সায়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে উল্লেখও করেছিলেন।
এই বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের যেকোনো পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরকারি বিবৃতি জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতির কাছাকাছি একজন সূত্র সংবাদমাধ্যমকে উল্লেখ করেছেন যে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে ইঙ্গিত করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার আর্থিক মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বিষয়ক এক অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের এই নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে সরকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি এবং যেসব সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রচার করছে তারা সেগুলো সত্য কিনা যাচাই করে দেখতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি নিজেই এ বিষয়ে কিছু বলতে চান তবে তাকেই সরাসরি প্রশ্ন করাই সঠিক পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আপাতত এর বেশি কিছু বলার অবস্থান সরকারের নেই।
স্বাস্থ্য কারণে সাহাবুদ্দিন পদ থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে পরবর্তী প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নির্দেশ করেন যে এই তথ্য জানার জন্য প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত।
২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মো. সাহাবুদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই রাষ্ট্রপতির পদ লাভ করেন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি অফিসে হাজির হন এবং পাঁচ বছরের মেয়াদে কাজ শুরু করেন। যদি কোনো বাধা না আসে তবে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে তার মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার কথা।
তবে পদ ত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করা তার জন্য নতুন কিছু নয়। ডিসেম্বর ২০২৫ এর দ্বিতীয় সপ্তাহে রয়টার্স সংস্থার সাথে কথোপকথনে তিনি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পদ ছাড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে তিনি এখান থেকে চলে যেতে আগ্রহী এবং তার এই পদ থেকে মুক্ত হওয়ার বাসনা রয়েছে। পদ ত্যাগের সঠিক সময় নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে নতুন সরকার গঠিত হলে অথবা সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে তিনি এটা বিবেচনা করবেন।
প্রেসিডেন্টের মনে এই ধরনের চিন্তাভাবনা কেন তৈরি হয়েছে তা নিয়ে সাধারণত প্রশ্ন উঠলে সাহাবুদ্দিন সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন যে তিনি এই অবস্থানে থাকা পছন্দ করেন না।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে সাহাবুদ্দিন যে ধরনের আচরণের সম্মুখীন হয়েছিলেন তার কারণে তার মনে বেদনার অনুভূতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন দূতাবাসে তার ছবি অপসারণ করা হয় এবং বঙ্গভবনের সাংবাদিক বিভাগকে সংকুচিত করা হয়, যা তার মনে অপমানের ছাপ ফেলে।
ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচনে বিএনপি প্রাধান্য পায় এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করলেও সাহাবুদ্দিন সেই সময়ে পদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং উপ-মন্ত্রীরা ১৭ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতির সামনে শপথ গ্রহণ করেন।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন তার কঠিন সময়কালে বিএনপির ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন যে বিপ্লবী সংগঠনটি তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং তাকে পাশে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।