শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

মস্তিষ্কের টিউমার চিনুন: লক্ষণ এবং সচেতনতা

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | লাইফস্টাইল

Administrator

মস্তিষ্কের টিউমার চিনুন: লক্ষণ এবং সচেতনতা

মস্তিষ্কের টিউমার হল প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি দুই ধরনের রোগ যা মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা এবং খিঁচুনির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বাংলাদেশে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে যা সময়মত সনাক্তকরণে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

মস্তিষ্কে যে টিউমার দেখা দেয় তা দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রথম শ্রেণির টিউমার প্রাইমারি, যেখানে মস্তিষ্কের নিজস্ব কোষ এবং আবরণী থেকে বৃদ্ধি শুরু হয় — গ্লিওমা এবং মেনিনজিওমা এর উদাহরণ। দ্বিতীয় শ্রেণি হল সেকেন্ডারি টিউমার, যা শরীরের অন্যত্র ক্যানসার থেকে উৎপন্ন হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায় — ফুসফুস অথবা যকৃত্‍ থেকে আসা ক্যানসার এর ক্ষেত্রে এটি ঘটে।

সতর্কতার লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না

মাথাব্যথা একটি সাধারণ এবং প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা হলেও, এটি মস্তিষ্কের টিউমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। বিশেষত যখন মাথাব্যথা ক্রমাগত তীব্র হতে থাকে, সকালে বা ঘুম ভাঙার সময় গুরুতর হয়ে ওঠে, হাঁচি-কাশি বা যেকোনো চাপে বাড়ে, অথবা কোনো ওষুধ দিয়েই উপশম না হয় — তখন এই ধরনের মাথাব্যথা সন্দেহজনক এবং মনোযোগ দাবি করে।

টিউমারের অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিতে ঝাপসাটা, বমি বমি ভাব, খিঁচুনি এবং হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় মস্তিষ্কের টিউমার সনাক্ত করতে সক্ষম হন, কারণ অভ্যন্তরীণ মস্তিষ্ক চাপ চোখের পিছনে নির্দিষ্ট লক্ষণ তৈরি করে।

রোগ নির্ণয় এবং নিরাপদ চিকিৎসা

টিউমারের সন্দেহ হলে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মতো মস্তিষ্ক ইমেজিং পরীক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মস্তিষ্ক টিউমারের চিকিৎসা পদ্ধতিতে বায়োপসি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির বিভিন্ন সমন্বয় ব্যবহার করা হয়। টিউমারের নির্দিষ্ট ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে স্টেরিওট্যাকটিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে আলোচনা অপরিহার্য। থ্রি-টি ইন্ট্রাঅপারেটিভ এমআরআই ব্যবহার করে নিউরোসার্জারি, বিশেষ করে মস্তিষ্কের টিউমার সার্জারিতে, এক বিপ্লবী অগ্রগতি সাধন করেছে।

বাংলাদেশে অস্ত্রোপচারের সুবিধা

ব্রেন টিউমারের নির্ভরযোগ্য এবং দক্ষ অস্ত্রোপচারের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগ সহ একাধিক হাসপাতাল রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও এই ধরনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করতে পারলে প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই কারণেই যত দ্রুত সম্ভব একজন দক্ষ নিউরোসার্জন বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

  • অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।