শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গোলাবারুদ ব্যবহার নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 51 মিনিট আগে | জাতীয়

Administrator

জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গোলাবারুদ ব্যবহার নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা

সরকারি উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিমি গোলাবারুদের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করেছেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের এই অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জুলাই আন্দোলনে ৭.৬২ মিলিমিটার গোলাবারুদ ও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তির সমালোচনা করেছেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে বাংলাদেশ পুলিশ অনেক বছর ধরে টাইপ-৫৬ রাইফেল (সাধারণত 'চাইনিজ রাইফেল' নামে পরিচিত) ব্যবহার করছে এবং এই রাইফেলগুলি ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি দিয়ে সজ্জিত।

টাইপ-৫৬ রাইফেলকে সামরিক-গ্রেড হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি উল্লেখ করেন যে এর কার্যকর পরিসীমা ব্যাপক এবং ভুলবশত নিক্ষেপ করা গুলিও শত শত মিটার দূর থেকে মানুষকে হতাহত করতে পারে। এ ধরনের প্রক্ষেপণাস্ত্র সাধারণ আইন প্রয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া সমীচীন ছিল না বলে মনে করেন উপদেষ্টা। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের এই রাইফেল থেকে ফায়ার করার ফটোগ্রাফিক ও ভিডিও প্রমাণের কথা উল্লেখ করেন। এই যুক্তিতে তিনি মত দেন যে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলির ব্যবহার কেবল অচেনা স্নাইপারদের দ্বারা হয়েছে এই দাবি সঠিক নয়। তবে কোন্ বুলেটে কার মৃত্যু হয়েছে তা নিরূপণে যথাযথ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন বলে তিনি সংযোজন করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে উপদেষ্টা এসব বক্তব্য রাখেন।

অন্য একটি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বকালে কোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যায় না। কিন্তু পদ ত্যাগের পরে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। উপদেষ্টা জানান যে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সম্পর্কে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অফিসে থাকার সময় রাষ্ট্রপতি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা পান। তবে পদত্যাগের পূর্বে বা পরে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আইনত বিবেচনা করা যায়। তিনি জোর দেন এই ব্যাখ্যা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রপতির জন্য নয়, বরং সকল রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি সাধারণ সাংবিধানিক নীতি।

বিভিন্ন আদালতে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে চলা মামলা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, বিচারালয়গুলি স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং প্রতিটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া আদালত নির্ধারণ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার কখনো একটি মামলায় পক্ষ, কখনো প্রতিপক্ষ হয়। উচ্চ আদালত সরকারের বিরুদ্ধে অসংখ্য রিট পিটিশনে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তাই সবকিছু সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে এমন ধারণা ভিত্তিহীন।

একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ এবং প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাবেন কিনা এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শক্তি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান এটিই শিল্পায়নের প্রথম অগ্রশর্ত। বর্তমানে দেশের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না, তাই নতুন শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশের দীর্ঘস্থায়ী নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগের অভাব ছিল এবং বরং আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমান সরকার স্থলজ গ্যাস অন্বেষণ, ভোলার গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে আনা, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমায় গ্যাস খোঁজার উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনে বছরের পর বছর সময় লাগবে, তাই বর্তমান সংকট তৎক্ষণাৎ মোকাবেলা সম্ভব হবে না।

ব্রিকস সংস্থার সদস্যপদের জন্য বাংলাদেশের উদ্যোগ অব্যাহত আছে কিনা এ প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং জনগণের স্বার্থ যায় এমন পদক্ষেপই সরকার গ্রহণ করবে। টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন এ বিষয় সরকারের লক্ষ্যে এসেছে। কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন শুধু টুথপেস্টের মধ্যে নয়, খাদ্য, পানীয় জল ও সামগ্রিক পরিবেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। একটি পণ্যের বিরুদ্ধে একা পদক্ষেপ সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয়, তাই সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা আবশ্যক।

২০১৮ সালের নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কিছু জেলা প্রশাসক ও যুগ্মসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি অসদাচরণ এর কারণ বর্ণনা করেনি। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সেবাকাল ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো কারণ ছাড়াই যেকোনো অফিসারকে অবসর দিতে পারে।

একজন মডেলের দায়েরকৃত অভিযোগ এবং তাতে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন অভিযোগটি তদন্ত করা হবে এবং চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান করা হবে। প্রমাণ ছাড়া কাউকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত করা অনুচিত কারণ এতে সে ব্যক্তি সামাজিক ও প্রকাশ্য অপমানের সম্মুখীন হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্মিত জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আসন্ন ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জানান উপদেষ্টা।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।