বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

কারাগার থেকে শেষ বিদায়: ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত দীপু মনি

6 ঘন্টা আগে | আপডেট: 33 মিনিট আগে | রাজনীতি
কারাগার থেকে শেষ বিদায়: ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত দীপু মনি

কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

আইনি জটিলতার মাঝে শেষ শ্রদ্ধা

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বন্দিদশা কাটিয়ে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার এই মুক্তির উদ্দেশ্য ছিল জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো। মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সরাসরি কলাবাগানের বাসভবনে পৌঁছে তিনি প্রিয়জন হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন। আইনি লড়াই এবং কারাবাস—এই দুই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে শেষবারের মতো স্বজনের সান্নিধ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ কেবল একজন আইনজীবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় তার অবদান আইন অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিষ্ঠালগ্নে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। পেশাগত জীবনের বাইরেও তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাউল সংস্কৃতির একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। বংশীবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল সুধী মহলে। দীর্ঘদিনের কিডনি ও লিভারজনিত জটিলতায় ভুগে ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু দেশের আইন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

রাজনৈতিক সংকট ও মানবিক প্যারোল

জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে একাধিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ডা. দীপু মনি বর্তমানে কারাবন্দি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই অস্থির সময়ে তার গ্রেপ্তার ও পরবর্তী কারাবাস জাতীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আইনি কাঠামোর মানবিক দিকটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগেও স্বামীর অসুস্থতার সময় তিনি প্যারোলের আবেদন করেছিলেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন সন্ধিক্ষণকে চিহ্নিত করে।

শেষ পরিণতির দিকে

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। প্রখ্যাত এই আইনজীবীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে। ডা. দীপু মনির এই সাময়িক মুক্তি এবং শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণ একদিকে যেমন মানবিক আবেদনের নজির, অন্যদিকে এটি তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতাকেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।