বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

কলকাতার হোটেলগুলোতে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড: কাঠগড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা

4 ঘন্টা আগে | আপডেট: 58 মিনিট আগে | বিশ্ব
কলকাতার হোটেলগুলোতে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড: কাঠগড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা

কলকাতার নিউ মার্কেট ও তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ত্রুটি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার এক করুণ দলিল।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নিরাপদ আশ্রয়ের আড়ালে মৃত্যুফাঁদ

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে কলকাতা ও তারাপীঠের মতো জায়গাগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিক দুটি অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করেছে, হোটেলের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নিউ মার্কেট ও তারাপীঠের হোটেলে ঘটা অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবের প্রতিফলন।

কেন বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি?

পুরোনো ভবনগুলোতে বৈদ্যুতিক তারের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং এয়ার কন্ডিশনারের অতিরিক্ত লোড বা শর্ট সার্কিট অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, প্রাণহানির আসল কারণ হলো ভবনের নকশাগত ত্রুটি। অধিকাংশ হোটেল ভবন সংকীর্ণ গলিতে অবস্থিত, যেখানে দমকলের বড় গাড়ি পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। এছাড়া জরুরি বহির্গমন পথের অভাব এবং ধোঁয়া বের হওয়ার সঠিক ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় অতিথিরা শ্বাসরোধ হয়ে মারা যাচ্ছেন।

উদ্ধারকার্যে প্রতিবন্ধকতা ও প্রযুক্তির অভাব

আধুনিক হোটেলগুলোতে স্মার্ট ফায়ার অ্যালার্ম ও স্প্রিংকলার সিস্টেম থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, অনেকক্ষেত্রে তা কেবল নামমাত্র। অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়া যেভাবে সিঁড়ি ও করিডোর দখল করে নেয়, তাতে অতিথিদের বের হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। কলকাতা ও তারাপীঠের ঘটনায় দেখা গেছে, আগুনের শিখার চেয়ে ধোঁয়াই ছিল প্রধান ঘাতক। হোটেল কর্মীদের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের অভাবও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

কলকাতা বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসার প্রধান গন্তব্য। তাই হোটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সচেতন হওয়া জরুরি। কেবল হোটেলের ভাড়া বা লোকেশন না দেখে, বুকিংয়ের সময় ফায়ার এক্সিট, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের কার্যকারিতা এবং জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিকভাবে যদি কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত অগ্নিনির্বাপক মহড়া বাধ্যতামূলক না করা হয়, তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।