শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

এলএনজি টার্মিনাল ত্রুটিতে দেশব্যাপী গ্যাস সংকট

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 42 মিনিট আগে | জাতীয়

Administrator

এলএনজি টার্মিনাল ত্রুটিতে দেশব্যাপী গ্যাস সংকট

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং রান্না থেকে পরিবহন পর্যন্ত সকল খাতকে প্রভাবিত করছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

বাংলাদেশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সংঘটিত একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেশব্যাপী গ্যাস সরবরাহে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছে। এই ত্রুটির ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব শুধুমাত্র আবাসিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন সবকিছুই এই সংকটের আওতায় পড়েছে।

গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে সরবরাহ মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুটে সীমিত। এলএনজি টার্মিনালের একটি ইউনিটের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাওয়ার পর এই সরবরাহ আরও কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে পরিণত হয়েছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এই সংকটের তীব্রতা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। মগবাজারের চেয়ারম্যান গলিতে বসবাসকারী নাজনীন নাহার জানিয়েছেন, গতকাল সকালে নাশতা রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালতে তাকে একাধিকবার প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছিল। চুলা জ্বলার পরেও গ্যাসের চাপ এত কম ছিল যে রান্নায় বেশ কয়েক ঘণ্টার অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

কাঁঠালবাগানের ইকবাল সরকার একটি ভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন—সকাল ছয়টা থেকে রাত দশটা অতিক্রম না করা পর্যন্ত তার বাড়িতে গ্যাসই আসেনি। তাই তিনি বিদ্যুৎ চুলায় রান্নার জন্য বাধ্য হয়েছেন।

সিদ্ধেশ্বরীর সুরঞ্জন ধর বর্ণনা করেন যে গত মঙ্গলবার থেকেই সমস্যা শুরু হয় এবং গত বুধবার সারাদিন গ্যাস নেই। পরে গ্যাস আসলেও চাপ অপর্যাপ্ত থাকে, যার ফলে তাকে বাইরের খাবার খেতে বাধ্য হতে হয়েছে।

গ্যাসের অভাবে শহরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলিতে যানবাহনের লম্বা সারি গড়ে উঠেছে। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সিএনজি চালিত যানবাহনের সেবা স্বাভাবিক করার দাবিতে ময়মনসিংহে চালকরা গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি দ্বারা পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এলএনজি বহনকারী জাহাজ বর্তমানে দূরে অবস্থান করছে বলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ এবং অন্যান্য অঞ্চলে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একই দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছে যে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত মেরামত করার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা বর্তমান সীমিত গ্যাস সরবরাহের সর্বোচ্চ এবং সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ত্রুটি সমাধান হলে গ্যাস সরবরাহ আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মুনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি থাকলেও এর মূল কারণ বহুবছর ধরে আমদানি-নির্ভর নীতি। এই আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এক শতাধিক নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।