বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তর: ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

5 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | জাতীয়
উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তর: ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত: উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেবল শয্যা সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বরং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ: একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল

বর্তমান সরকার কেবল অসুস্থতার চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ‘প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা’ বা প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। ড. মুহিতের মতে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলা সাশ্রয়ী এবং কার্যকর। এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, যা এই নীতিগত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টিকাদান কর্মসূচি

তেজগাঁওতে আয়োজিত জাতীয় ওরাল কলেরা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। দুর্গম চরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় হতে হবে। একই সাথে, তিনি বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা কলেরা নির্মূলে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত হলে স্বাস্থ্য খাতের ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সুবিধা আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন ঘটবে এবং স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।